আবারও

পৃথিবীর কত কিছু বদলে গেল। জাস্টিন বিবারও দেখতে দেখতে পিচ্চি থেকে বড় হয়ে গেল। অথচ আমার অভ্যাস আর বদলালোনা। কাজ করার চাপ যখন অনেক অনেক বেশি, তার সাথে পাল্লা দিয়ে আসল কাজ ছাড়া যে কোন কিছু করার জন্য মন খালি ছটফট করে। আজকে নিয়ে পরপর তৃতীয় দিনের মত কিছু একটা লিখছি! ভাবা যায়?! হে জিহাদ, তুমি কবে মানুষ হবে।

গত দুইদিন আমি আমার পুরনো ব্লগগুলো বসে বসে পড়লাম। পড়তে পড়তে হাসলাম কখনো হাহাহিহি করে।  কিছু লেখার হাত ধরে পুরনো অনেক স্মৃতি মনিটর ফুঁড়ে এসে হাই হ্যালো বলে গেল। আবার অনেক লেখা পড়ে মনে হলো কত ছেলেমানুষ ছিলাম! কে জানে দশ বছর পর এই ব্লগ পড়ে নিজেকে কী মনে হবে। সময় কী যে দ্রুত চলে যাচ্ছে। ব্যাপারটা খুবই ডিপ্রেসিং। এই কদিন আগেই মনে হলো ২০১৫ এসে গুডমর্নিং বললো। আর দুইমাস পড়েই সে নাকি গুডনাইট বলে ঘুমিয়ে পড়বে। কে বলবে এত দ্রুত আটমাস চলে যেতে পারে! অথচ এই আটমাস এ মনে রাখার মত কী করেছি চিন্তে করতে গেলে অনেকক্ষণ ধরে স্মৃতির বাক্সো খুঁজেও কিছু পাওয়া যায়না। কী বাজেভাবেই না সময় গুলো পার করছি। একটাই তো জীবন, তারও কি নিদারুণ অনর্থক অপচয়! 😦

জুবায়েরের বিয়ের কথা হচ্ছে। ছেলেটা খুব সিরিয়াস ভঙিতে তার বিয়ে সংক্রান্ত নানা জটিলতার কথা হাত পা নেড়ে নেড়ে বর্ণনা করে যায়। অথচ আমাদের শুনে মনে হয় মিরাক্কেলের স্ট্যান্ডআপ কমেডি শুনছি। এই সুযোগে এরেঞ্জড ম্যারিজের টিপিক্যাল জটিলতাগুলো জানা হচ্ছে। জানার কোন শেষ নাই, বলে গেছেন সুকুমার ভাই।

আজকে শেষ রাতের দিকে কেমন হালকা ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিলো। কাঁথামুড়ি দিয়ে একটা আরামের ঘুম হলো। এবারের বর্ষা কেমন নাছোড়বান্দা আর অভিমানী মেয়ের মত। কিছুতেই আকাশের দরজা ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছেনা। আজকে রাতের হালকা হিমহিমে ঠান্ডায় মনে হলো অভিমানী মেয়ের রাগ ভাঙবে বুঝি অচিরেই। তবে এবারের শীতটা কেমন যাবে জানিনা। গত শীতে ঢাকার আশেপাশে অনেকগুলো সাইকেল ট্যুর দেয়া হয়েছিলো। এবার ইমতিয়াজ কানাডা, আমিন ভাই হাঁটু ভেঙে বিছানায় শুয়ে বসে এপাশ ওপাশ করছে। সাইকেলে কবে চড়তে পারবে আবার তার কোন ঠিক নেই। এহসান ভাইকে ট্যুরে যাওয়ার জন্য গুতালে এহসান ভাই গম্ভীর মুখ করে বোঝানোর চেষ্টা করেন তার বয়স হয়ে যাচ্ছে। সবকিছুই কেমন যেন বেঠিক এবার। সাইকেল ট্যুর না হলে ব্যাপারটা খুব খারাপ হয়ে যাবে। দৌড়ে দৌড়ে বেড়ে যাওয়া বয়েস, কিংবা রেসপন্সিবিলিটি অথবা সামাজিকতার ভুত – এগুলোকে বুড়ো আঙুলখানা দেখিয়েই যেতে হবে যতদিন বেঁচে আছি।

আজকে দুপুরে আরিফ ভাই বেশ সিরিয়াস ভঙিতে এসে জিজ্ঞেস করলো – ভাই, আজকে দুপুরে কী খেতে চান। আমি ততোধিক সিরিয়াস একটা লুক নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ভেবে বললাম – খিচুড়ি? আরিফ ভাই, পুতিনের মত আশ্বাসী একটা লুক দিয়ে বললো – ওকে। ঘন্টাখানেক পর খেতে গিয়ে দেখি টেবিলে সায়েন্স ক্যাফেটেরিয়ার বিশ টাকার ভাত, ডালের মত তরকারি কিংবা তরকারি মত ডাল, সাথে যমজ আলুভর্তা। নিজেকে তখন কেমন সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত মনে হলো। ফুক ইউ, আরিফ ভাই।

টিপু নতুন একটা সাইকেল কিনেছে। ফনিক্স, দাম উনিশ হাজার পাঁচশত টাকা মাত্র । উচ্চারণটা আসলে ফিনিক্স। কিন্তু ছোট বেলায় ফনিক্স বলে বলেই বড় হইসি। ফনিক্স শব্দটার উপর তাই মায়া পড়ে গেছে। শৈশবের এতটুকু ভুলও কত প্রিয় এখনো।

জামান আজকে উইন্ডোজ টেন ক্লিন ইন্সটল দিলো। এতদিন উইন্ডোজ সেভেন ইউজ করলো। টেনে এসে তার অবস্থা রিকশাওয়ালার হঠাৎ করে শেরাটনে ব্যুফে খেতে যাওয়ার মত হইসে। যা দেখে তাই ভালো লাগে সিন্ড্রোম। তবে উইন্ডোজ টেনটা আসলেই পুরা মাক্ষন বানাইসে। নো ডাউট এবাউট দ্যাট।

১৬,১৭,১৮ তারিখে লালন মেলা কুষ্টিয়াতে। লাফাতে লাফাতে গ্রুপে গিয়ে পোস্ট করলাম সানী ভাইকে মেনশন করে, যাবে কীনা। সে আমাকে শুক্রবারের হাইকোর্ট দেখায়ে প্রত্যাখ্যান করলো। নালায়েক সানী ভাই। তারপর সাজ্জাদকে নক দিলাম। সে ছুটি পাবেনা মর্মে একটা স্যাড স্মাইলি পাঠালো ফেসবুকে। মিস্টারকেও বলবো। তবে খুব একটা আশা দেখছিনা। সে সেলফি তুলে সময় পাচ্ছেনা আজকাল। কুষ্টিয়া সে তো বহুত দূরের পথ। লালনের আকাশে আজ শুধুই দুর্যোগের ঘনঘটা। যাওয়া বোধহয় হচ্ছেনা।

সন্ধ্যেবেলা গেলাম বাটার কিনতে। বাসার পাশে নতুন হওয়া পে লেটার শপে ঢুকলাম। যে কনফেকশনারি থেকে সাধারণত জিনিস কিনি সেই ছেলেটা বাটার নেই বলে না করলো, তাই ওই দোকানে যাওয়া। বাইরে থেকে দেখতে ছোট মনে হয় দোকানটা। এই ক’দিন দেখে টেখে ভাবছিলাম কী দোকান বানাইসে এইটা। মুদির দোকানও তো এর চে বড়। কিন্তু আজকে ঢুকে দেখলাম ভেতরের দিকেও বেশ জায়গা আছে। বাচাল সেলসম্যানের বদৌলতে জানা হলো দোতালায়ও এক্সটেন্ড করবে। সম্ভবত এখনো খুব বেশি কাস্টোমার হয়না। সেলসম্যান দুইজন আমাকে পেয়ে তাই তাদের মনে জমে থাকা সকল কথা প্রথম থেকে বলা শুরু করলো। একবার মনে হচ্ছিল মুখের ওপর বলি – ভাই থামেন। এত কথা বলে কেনার বদলে মেজাজ আরো বেশি খারাপ করতেসেন। কিন্তু তা আর বলা হয়নি শেষমেষ, বলাই বাহুল্য। মানুষ হয়ে জন্মানোর কুফল। কুকুর হয়ে জন্মালে ঘেউ ঘেউ করে দুই বেকুবকেই থামায়ে দিতাম নিশ্চিত।

অনেক কিছু লিখে ফেললাম। নতুন শুরু হিসেবে চিন্তা করলে বেশ ভালো ব্যাপার। এবার টাটা, অন্যদিকে দিলাম হাঁটা ।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s