১১.১১.১১

ঘুরে ফিরে সেই পুরনো উপলব্দিগুলোই আবার নিজের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এ ব্লগে লেখা কেবলমাত্র চরম রকমের ডিপ্রেসড অবস্থাতেই বেশি হয়। স্বীকার করছি, আমি ভীষন রকমের ডিপ্রেসড এখন। সার্চ ইঞ্জিন আবার ব্লক করে দিলাম। নিজের ডিপ্রেশন মানুষ খুব গুরুত্ব নিয়ে বিচার করে, ভাবে। তবে অন্যেরটা শুনতে গেলা সেটাকে প্যানপ্যানানির চেয়ে বেশি ভালো কিছু কখনোই মনে হয়না।

মানুষ সবচে বড় কষ্টগুলো পায় তখনই যখন সে কী বলতে চাইছে তা যখন যাকে উদ্দেশ্য করে বলা সে বুঝতে পারেনা, উল্টো পুরো ব্যাপারটা ভুল বুঝে সেই মানুষটা যখন নিজের অজান্তেই কষ্টের বোঝাটা বহন করতে না পারার মত অসহনীয় করে দেয়।

আমি কাউকেই দোষ দিচ্ছিনা। কিন্তু আমি সত্যিই জানিনা আমার এ অবস্থায় কী করা উচিত। সারারাত ঘুমোতে পারিনি। কিন্তু আমি সত্যিই আর পুরো ব্যাপারটা সইতে পারছিনা। তাই মনটা হালকা করতে আবার সেই পুরনো বন্ধুর কাছে মাথা নিচু করে ফিরে আসা। অন্তত যে কখনো আমার কথার মাঝখানে থামিয়ে দিয়ে এমন কিছু বলেনি যা আমাকে ভেতরে ভেতরে দুমড়ে মুচড়ে দেয়।

মাঝের বেশ কিছু সময় আমি দারুণ রকমের ভালো ছিলাম। মনে হতো আমার জীবনটা বেশ সহজ, সরল আর হাসিখুশি হয়ে আসছে। ইদানিং আবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আবার সেই পুরনো, ভেতরে ভেতরে ভেঙে যাওয়া প্রতিকৃতি দেখতে পাচ্ছি। কাছের মানুষরা বলে আমি একটা রোবট, কথাটা আসলে সত্যি ছিলোনা। শামুককে যখন কেউ বলে তুমি খুব শক্ত দেহের মানুষ, সেও নিশ্চয়ই আমার মতই অনেক বেশি চাপা কষ্ট অনুভব করে। তবে যারা এমন বলে কিংবা বলতো তাদের কথা মনে হয় সত্যি হয়ে যাচ্ছে। আমি ইদানিং টের পাই আমার অনুভূতিগুলো কাঁচের দেয়ালে আছড়ে পড়তে পড়তে তারা ইদানিং আর কোন ব্যথা অনুভব করেনা। আমি সত্যিই রোবট হয়ে যাচ্ছি।

পৃথিবীতে দুটো মানুষের জন্য আমি এখনো বেঁচে আছি। আমার বাবা, মা। আমি জানিনা আমার জীবনে এ দু জন মানুষ না থাকলে আমি এই লেখাটা লেখার জন্য অপেক্ষা করতাম কীনা।

আমি আসলে ব্লগ লিখতে ভালোবাসি। কারণ আমি এখানে একতরফা ভাবে ভেবে নিতে পারি আমার ভেতর থেকে বের হয়ে আসা শব্দগুলো আমার কথাগুলো শুনে বুঝতে পারছে আর মমতা নিয়ে আমার অনুভূতির গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.