এ কে লা

ওকে। আই এম ব্যাক। একলা মেঘ কখনো দোকলা থাকতে পারবেনা, এটাই স্বাভাবিক। সো আই এম ব্যাক 😀
আমার মন খারাপ নেই – এটা বললে খুব ভুল বলা হবে। কাজেই আমি সেটা বলছিওনা। হ্যা আমার মন খারাপ। বেশ ভালো রকমেরই খারাপ। তাই অফিসে বসে ব্লগ লিখছি। আর ভাবছি – আমার মন ভালো নেই।
শেষ কয়েকটা মাস কেমন রোলার কোস্টারের মত ধুমধাম এসে ধুমধাম করে চলে গেলো। আর আমি থমথমে মুখ নিয়ে সে কথাই ভাবছি :ঢ
কাল বই মেলা গেলাম। কারণ ভাল্লাগছিলোনা। এবিসি থেকে পাঁচটার সময়ই বেরিয়ে গেলাম। মেলাতে জামান, সামিয়া ছিলো আগে থেকেই। পরে লিংকন এসে ভীড়লো। শুরুতেই বটতলায় দেখা নুপূর ভাবীর সাথে। তারপর একেএকে অনেকের সাথে দেখা হলো। তারেক ভাই, বণিক দা, আশরাফ ভাই, শাতিল আপু, তানভীর ভাই , এক্স ওয়াই জেড, ব্লা ব্লা ব্লা। ও হ্যা, সাড়ে সাতটার দিকে আসলো আন্দালিব ভাই, তানজীলা, আর পৃথা। তারপর আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বললাম। কিছুক্ষণ এদিক ওদিক ঘুরলাম। ফাঁকে ফাঁকে আমি সামিয়াকে ওয়াও টাইপের সব আইডিয়া দিয়ে কনসালটেন্সী ফী হিসেবে ৩০টাকা কামিয়ে ফেললাম। অবশ্য আসার সময় টাকাটা চেয়ে আনতে ভুলে গেছি। তারেক ভাই একটা বই কিনলো বাংলা একাডেমি থেকে যেটার দাম ছিলো বিশটাকা, আর ১০ টাকা কনসেশনে দাম পড়লো দশটাকা। সেটা শুনে আমি কিছুক্ষন খুব মনযোগ দিয়ে ভেবে হিসেব করে দেখলাম আমার মেলা পর্যন্ত আসতেই খরচ হয়েছে বিশটাকা।

তারপর সব কোলাহল পেছনে ফেলে একসময় আমরা সোহাগে গেলাম ডিনার করতে। সামিয়া ওর প্রচ্ছদ তৈরীর পেমেন্ট পেয়েছে কাল। তাই খাওয়ার বিলটা দিলো ও। আর লিংকন খেতে খেতে বই মেলা থেকে বউ মেলার প্রচলন করলে কেমন হয় সেটা নিয়ে সশব্দে ভাবা শুরু করলো। আমরা শুনে বললাম – ঠিক ঠিক। তারপর বললাম – তোর বউয়ের মোড়ক উন্মোচন কবে হবে? সেটা শুনে সামিয়া আমার দিকে তেড়ে আসলো খাওয়া বাদ্দিয়ে। শেষ পর্যন্ত মারেনি। কিন্তু মোড়ক উন্মোচন নিয়ে আরো নানা আইডিয়া বের হতেই লাগলো তো হতেই লাগলো। সামিয়া কাবাব নাকি আমাদের – কোনটা চিবিয়ে খাবে বুঝতে না পেরে শেষমেষ পরোটা খাওয়ার দিকেই মন দিলো। সোহাগ থেকে বের হয়ে আমরা হাটতে লাগলাম টিএসসি বরাবর। এর মাঝে কয়েকবার লাথ্থি খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে গেলাম। কিন্তু থিওরিটিক্যালি শেষ পর্যন্ত মোড়ক উন্মোচন করেই ছাড়া হলো :)) তবে সামিয়া মাঝে আমাকে দশ টাকার পেয়ারা কিনে দিলো। তাই বাকিপথ ভালো মানুষ হয়ে গেলাম।
সবমিলিয়ে খুব মজা হলো। তবে ব্যাকগ্রাউন্ডে মন খারাপের মিউজিকের ভলিউমটা কিছুতেই কমাতে পারলামনা। সেটা আরো বেড়ে গেল যখন রাতে কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম। ভলিউম কমাতে তখন কেউ আর আমার সাথে নেই, না জামান, না রায়হান, না সামিয়া। আমি খুব মন খারাপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোরের দিকে এলোমেলো স্বপ্ন দেখলাম অনেকগুলো। ঘুম ভাঙার পর শুধু মনে হচ্ছিলো- আমি একলা জেগে থাকা ছোট্ট একটা মেঘ। আর মেঘেদের কখনো দু:খ করতে নেই।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s