শুক্রবার

দুপুরের রোদ এখন আমার পায়ের কাছে এসে বসে আছে। মনে হচ্ছে পর্দা কিনতে হবে।

কালকে জামানের রাত দেড়টার দিকে খুব খিদা লাগলো। রান্নাঘর থেকে খুট খাট আওয়াজ পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষন পর একটা বাটি সামনে বাড়িয়ে ধরে বললো- খান। তাকিয়ে দেখি কালো মতো পুড়ে যাওয়া কি যেন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম – বেগুন?
ও বললো – না, আলু! 😀

আমি একটা তুলে নিয়ে মুখে দিলাম। এরকম স্বাদ আগে কখনো পাইনি। তাই কয়েক সেকেন্ড কনফিউজড থাকলাম। পরে যখন দ্বিতীয়টা নেবার জন্য আবার প্লেট বাড়িয়ে দিলো আমি হাত নেড়ে না না করে উঠলাম। তখন বুঝতে পারলাম স্বাদটা আসলে ঠিক লাইনের হয়নাই 😀

তারও কিছুক্ষন পর উবুন্টু আপডেট হতে দিয়ে খুশি মনে ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু ঘুম ভেঙে গেল মাঝরাতে। বুঝতে পারছিলাম শরীরটা ঠিক ভালো লাগছেনা। বাথরুমে কোনরকমে কমোড পর্যন্ত পৌছাতেই বমি শুরু হলো। সব অসুখের মধ্যে সবচে অস্বস্তিকর মুহুর্তটা বোধহয় বমি করার ঠিক আগের মুহুর্তটা। একদম ভালো লাগেনা আমার। হঠাৎ করে অনুভব করলাম শরীর সুস্থ্য থাকাটা আসলে কত বড় আশীর্বাদ। বমি করতে করতে তবু আমার মনে হতে লাগলো – ওয়াও! শরীরের মেকানিজমটা কি অদ্ভূত রকমের সফিসটিকেটেড! একটা কিছু অস্বাভাবিকতা নজরে আসতেই সে নিজে থেকেই তার সল্যুশনটা বাতলে দিলো!
আমি ফ্রেশ হয়ে টয়ে আবার শুয়ে পড়লাম। জামানের অনাস্বাদিতপূর্ব আলুভাজা আর কখনো খাবোনা। ঘুম চলে আসার আগ পর্যন্ত যতদূর মনে পড়ে এটা নিয়েই ভাবছিলাম।

আমার লেখা প্রথম ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইনটার স্ট্যাট আজকে হঠাৎ চেক করে দেখি গত পঁচিশ দিনে মোট ১৭৪বার ডাউনলোড করা হয়েছে। নট ব্যাড।

আমাদের বাসার পাশেই একটা হোটেল মত আছে। অবশ্য একটু ভিতরের দিকে বলে অনেকদিন নজরে আসেনি। প্রথম এটার খোঁজ নিয়ে এসেছিলো জামান। ভাগ্যিস নিয়ে আসছিলো। এদের আলুর চপ টা পুরা সেরকম লেভেলের জোশ। দাম মাত্র তিনটাকা। মাঝে মাঝে মনে হয় আরো কিছু টাকা বকশিশ দিয়ে যাই। খেকয। সেদিন মিস্টারকে সাথে নিয়ে গেছি। ও প্রথম চপটা মুখে পুরে কিছুক্ষণ হ্যাং হয়ে থাকলো মুখটা স্থির রেখে। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে – দোস্ত, আই এম লাভিং ইট! 😀

কারেন্টের যন্ত্রণায় সবকিছু চুলোয় যাওয়ার জোগাড়। রাত বারোটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়ে ঘন্টায় ঘন্টায় ঘন্টা ব্যাপী কারেন্ট যায়। সবচে অবাক ব্যাপার এদেশের চরম অসহিষ্ণু মানুষগুলোও এরকম অসহনীয় একটা ব্যাপার সয়ে নিয়েছে নির্বিকার মুখে। কেউ আর লোডশেডিং হলে গা করেনা। অভ্যস্ততা বুঝি একেই বলে।

কয়েকদিন আগে শিমুল আপা এসেছিলো ঢাকায়। আমার গার্লফ্রেন্ড সেজে ঢাকা শহর ঘুরে বেড়ালো। সারা দিনে অনেক মজা হয়েছে সেদিন। পুরো কাহিনিটা পাওয়া যাবে এখানে

আজকে শুক্রবার। ছুটির দিন। আমার কাছে অবশ্য বিশেষ কিছু মনে হয়না। কারণ আমার কাছে সব দিনই এখন শুক্রবার।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

2 Responses to শুক্রবার

  1. নিবিড় বলেছেন:

    রাতের বেলা আমারো মাঝে মাঝে ক্ষুধা পায় তখন ফ্রিজ খুলে খাওয়া দাওয়া করি 🙂
    শরীর খারাপ নাকিরে ব্যাটা? আমারো খারাপ ছিল গত কয়েকদিন। আর তোদের বাসার সেই দোকানের চপ না খেয়ে কোন মত দিতে পারলাম না কারণ মিস্টার মিয়ার কাছে সব ভাল লাগে 😛
    আমারো অবশ্য শুক্রবার কাল চলছে তবে আমি বিজি। জানিস তো ইজি কাজে বিজি থাকা আমার স্বভাব 😀
    আর এই জায়গাটার খবর আগে জানতাম না মনে হয়। এখন থেকে দেখা হবে মাঝে মাঝে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s