অক্টেভ ৫, ১০

এই ব্লগ শুরু করার দুই বছর পর সার্চ ইঞ্জিন আবার আনব্লক করে দিলাম। অনুভূতিগুলো নিজের উঠোনে চাপা পড়ে না থেকে এখন থেকে বরং আকাশের সীমানায় মিলিয়ে যাক।

শেষ লিখেছিলাম অগাস্ট এর আটাশ তারিখে। বোঝাই যাচ্ছে অলস মানুষের ব্যস্ততা সবচে বেশি থাকে।

গত তিনদিন ধরে গরমে টেকা দায় হয়ে গেছে। বাসায় থেকেও ঠিক থাকতে পারছিনা। যারা নিয়মিত অফিস ঘাট করতে বেরোয় তাদের কথা কল্পনা করতে পারছিনা আপাতত। আমাদের কিচেনের পাশের জানলাটা দিয়ে খুব সুন্দর ঠান্ডা একটা বাতাস আসে। কিন্তু সবসময় তো আর কিচেনে বসে থাকা যায়না। তবে মাঝে মাঝে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। মানুষ দেখি, আকাশ দেখি, আর ভাবি – আহা, কি সুন্দর ঠান্ডা বাতাস!

এই মাসের দুই তারিখে নেট নেয়া হলো। আপাতত স্বস্তিতে আছি লাইন নিয়ে। যদিও একটু বেশি ঠকাইসে, তবু জিপির ধান্দাবাজির কথা ভাবলে তেমন কিছুনা।

গুগল টকের সার্ভিসটা খুব জোশ। জার্মানীতে তাওসীফ এর সাথে টানা একঘন্টা কথা হলো পরশু। কোন লাইন ড্রপ নাই, কিচ্ছু না। কথা সুন্দর শোনা গেল। আর ভাবছিলাম ওয়ারিদের ভয়েস কোয়ালিটিটাও যদি নিদেন পক্ষে এমন হইতো! গুগলের ইউএসএ কানাডা ফ্রি কলের সার্ভিসটাও ব্যাপক। প্রপা’র সাথে কথা বললাম। রকিবকে ফোন দিলাম। কিন্তু ব্যাটা মনে হয় ক্লাসে ছিলো। ধরলোনা। আর দিহান ভাবীকে জানিয়ে টানিয়ে ফোন দিতে হবে। রাতের বেলা তার মা নাকি সেটা দখল করে রাখে।

আমার হাত দুইটা মনে হচ্ছে ইদানিং ছিড়ে পড়ে যাবে। টানা কীবোর্ড গুতাগুতি করার ফল। তাই কাল থেকে আবার হালকা ব্যায়াম শুরু করলাম। কন্টিনিউ করা একটা মহা সমস্যা। আমি একটা যত দ্রুত একটা জিনিস শুরু করি, তার চে দ্রুত তার দি এন্ড ও টেনে দেই। ব্যায়াম করতে করতে কাল হঠাৎ কলেজের পিটি টাইমের কথা খুব মনে পড়লো। এমন কিছু স্মৃতি হুট করে বেরিয়ে আসলো, যেগুলো আমি তার একটুক্ষণ আগে পর্যন্ত বেমালুম ভুলে বসেছিলাম। তাই ভাবছিলাম বিশেষ কোন ঘটনা বিশেষ কোন স্মৃতিকে কেমন আচমকা আবার চোখের সামনে তুলে আনে।

এই মাসটাতে বড়ই অর্থকষ্টে আছি। তবে খুশির খবর জামান এখন থেকে শুনলাম ১০হাজার টাকা স্কলারশীপ পাবে। তাহলে অন্তত এই মাসটা নিয়ে দু:শ্চিন্তার আপাতত অবসান।

গ্যালিলিওস্কোপ দিয়ে এতদিন শুধু তারা দেখেছি। কিন্তু তিনদিন আগে যখন চাঁদ দেখলাম, আমি একদম হা হয়ে গেলাম। এতদিন ধরে দেখে আসা আলো ঝলমলে জিনিসটা একদম নতুন হয়ে ধরা দিলো। চাঁদের অন্ধকার অংশটুকু, আর আলোকিত অংশটুকু ঠিক যেখানে এসে একে অপরকে হাই হ্যালো দিয়ে মিশে গেছে সেখানটা খুব ভালোমতন বোঝা যাচ্ছিল। আর চাঁদের গায়ের এবড়ো থেবড়ো গর্তগুলো – সেগুলোও কেমন হঠাৎ পষ্ট হয়ে উঠলো। আমি দেখে শুধু বলতে পারলাম – ওয়াও! তারপর জামান দেখে টেখে নিয়ে আরো একবার বললো – ওয়াও! তারপর আমরা দুজন অনেকক্ষণ চাঁদ নিয়ে কথা বললাম। সেই আলোচনা নানা দিকে ঘুরে টুরে শেষমেষ মহা দার্শনিক প্রশ্নের সামনে এসে হোঁচট খেলো – আমরা আসলে কারা?! 😀 😀

থার্ড ইয়ারে উবুনটু শুরু করেছিলাম হার্ডি হেরন দিয়ে, তারপর একটা রিলিজ স্কিপ করে জন্টি জ্যাকালোপ। এখন আবার ভাবছি আগের ধারা বহাল রেখে লুসিড লিনাক্সটা ইন্সটল দিয়েই ফেলবো। আর লুসিডটা বেশি জোশ লাগসে। তাই কাল জামান ল্যাব থেকে পেনড্রাইভে করে ফাইলগুলো নেট থেকে নামায় নিয়ে আসলো। আমি পিসিতে পেন ড্রাইভ কানেক্ট করে দেখলাম সেটার সাইজ মাত্র ২.৪ মেগা। জামানকে একটা ঝাড়ি দিলাম। তাই জামান আজকে আবার পেনড্রাইভ নিয়ে গেসে। ল্যাব থেকে আবার নামায় নিয়ে আসবে।

গরমে বোধহয় আকাশটাও অতীষ্ট হয়ে গেসে। এই লেখাটা লিখতে লিখতেই আকাশটা কোত্থেকে যেন অনেকগুলো মেঘ ধরে নিয়ে এসে চারদিকে ছড়িয়ে দিলো। বাতাসটা আগের চে একটু ঠান্ডা। তবে গরমের আঁচটা এখনো একটু আছে। ওহ আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার রুমটা এখন একদম গ্রীণ হাউজ হয়ে গেসে। একপাশের দেয়াল পুরোটাই জানলা বলে গ্লাস লাগিয়ে দিলে একদম গ্রীণ হাউস হয়ে যায়। আবার না লাগালে সূর্যের রোদ সরাসরি আমার বিছানায় এসে হামলে পড়ে। আর সেটা হট ফার্নেস হয়ে যায়। তাই রোজ সকালে আমি রুমটাকে গ্রীণ হাউস বানিয়ে ফেলে বসে থাকি। আর গরমে সেদ্ধ হতে হতে দিন সাদা হয়ে যাচ্ছি বোধহয়।

মনে হচ্ছে বৃষ্টি আসবে। বাতাসে হালকা বৃষ্টির গন্ধ।

এবং আমার আরো মনে হচ্ছে অনেকদিন পরে লিখতে বসে যথেষ্ট লিখে ফেলেছি। ফুলস্টপ।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s