অবশেষে

হতাশারা উড়ে যায় বাতাসে
যেন শীতে ঝরে যাওয়া পাতা সে
উড়ে যায় , যায় উড়ে, উড়ে যায়
বালকের কোল ছেড়ে দূরে আরো দূরে যায়।

বারান্দায় তখন অনেক বাতাস ছিল। গিয়ে বসে ছিলাম চুপচাপ। কানের ভেতর হেডফোন গুজে। খেয়াল করে দেখলাম লোডশেডিং এর সময় বারান্দায় মুখের ওপর অন্ধকার ঝুলিয়ে বসে থাকলে ব্যাপারটা তেমন আর বিরক্তিকর লাগেনা। গান শুনতে শুনতে আমার কেমন জানি হেভি ফিলিংস আসলো। মাথার ভেতর যেন কোন চিন্তা নেই, দুশ্চিন্তা নেই। শুধুই বসে থাকা কেবল বসে থাকার জন্য। যেন চেনা কারো জন্য অপেক্ষা। এসে পৌছলেই নিজের এক কান থেকে খুলে নিয়ে আলতো করে হেডফোনটা গুজে দেবো তার কানে। অনেক রোমান্টিক রোমান্টিক লাগছিল তখন, আসলেই।
কেন যেন কয়েকদিন ধরে ঢাকার সবখানেই ব্যাপক বাতাস। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক, কিন্তু মোটেও অস্বস্তিকর না।

তারপর বারান্দায় বসে থাকতে থাকতে নিচের তলার কিচির মিচির শুনলাম। ডান পাশ দিয়ে বিকট বিশ্রি গর্জন করে রানওয়ে ছাড়া বিমান বাংলাদেশের প্লেন দেখলাম, বুকের নিচে হারিকেন জ্বলার মত টিমটিমে আলো। সবদিনই দেখা হয়। কিন্তু আজকে দেখে ভালোও লাগলো।

বাসায় পানি ছিলোনা পাক্কা তিনদিন। মাঝে একবারের জন্যও আসেনি। কালকে সারাদিন বাইরে ছিলাম। বাসায় এসে পানি দেখে কেমন যে ফিলিংস হইসিলো বলার মত না। তারপর ঘামে চিটচিটে শরীর নিয়ে বিছানায় গেলাম। সকালে উঠে দেখি সেটা আঠা আঠা হয়ে গেছে। তারপর দুপুর বেলায় আমরা বাসার তিনজন কান্ধে গামছা ঝুলিয়ে ১৪নং বাসীর সবার সামনে দিয়ে রওনা দিলাম রাজীবদের বাসায়। ওখানে পানি আছে। টয়লেটে গিয়ে ধরা খাওয়ার চান্স নাই। তারপর পানি আসলো একদম রাতের বেলা। আজকে দশটার দিকে। তার একটু আগে তাওসীফ রংপুর থেকে ফিরলো বাসায়। বেচারার চেহারা দেখলেই বুঝা যায় ব্যাপক মাস্তি মনে এখন। ৪৮লাখ বলে কথা।

আমার ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আর এমবিএর এক্সাম একই দিনে, এপ্রিল এর নয় নাম্বার দিনে। প্রথমে ভাবসিলাম ব্যাপারটা তেমন কিছু হবেনা। এখন তো কেমন ডর ডর লাগতেসে। এত বেশি পরীক্ষা দিতে পারে ধারণা ছিলোনা। চান্স না পাইলে খবরই আছে। যে কনফিডেন্স নিয়ে বাসায় বলে আসছি যে টেনশন নাই কোন, তার দ্বিগুন পরিমাণ চিন্তা এখন মাথায়। দেখা যাক কি হইতে কি হয়।

কালকে চার সদস্য বিশিষ্ট সিসিবি টীম দুইটা বিয়ে খাইলাম। দুপুর বেলায় আমিন ভাইয়ের আর রাতের বেলায় আদনান ভাইয়েরটা। খেয়ে দেয়ে অবস্থা খুব খারাপ। পেটের ওপর ব্যাপক প্রেসার যাচ্ছে। ঠিক করসি অদূর ভবিষ্যতে যে কোন প্রকারের বিয়ের দাওয়াতের ক্ষেত্রে দুইশো হাত দূর দিয়ে চলাচল করবো।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

One Response to অবশেষে

  1. তোর দিনলিপিগুলো এত সুন্দর কেন রে!!
    কেমন যেন আচ্ছন্ন হয়ে যাই…
    আমি এরকম একটা সুন্দর ব্লগ চেয়েছিলাম…। কী থেকে যে কী হয়ে গেলো জিনিসটা!! 😦

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s