ভোর

যখন হাতে খুব বেশি কাজ জমে তখন সবচে ভালো লাগে কোনটাই না করে মুখ নির্বিকার করে বসে থাকা। অবশ্য এখন ভাবলাম একেবারে বিকার ছাড়া না থেকে দুই লাইন গুতাগুতি করি।

চারটা দশ বাজে। চারটা বেজেও আরো দশ মিনিট বেশি। হুম। ঘুমের কোন লক্ষণ চোখে মুখে দেখা যাচ্ছেনা। শুধু মাথার ভেতর ঘুরতেসে কালকে যে করেই হোক গোসল করতেই হবে। আর কত ফাকিবাজি।

এবং আমাকে কালকে নয়টায় উঠতে হবে (যদি ঘুমাই আর কি)।

ঘুম থেকে উঠে যদি দেখি মুহাম্মদ, জামান উঠেনাই তাইলে ঐ দুইটারেও ডেকে তুলতে হবে। তারপর এটিএম শামসুদ্দীনরে পকেটে নিয়ে যেতে হবে ডিবিবিএল বুথে। আমার ক্যান জানি মনে হইতেসে পায়ত্রিশ হাজার টাকার ট্রানজেকশন কয়েক হাজার বাকি থাকতেই হাল ছেড়ে দিয়ে বলবে আমার পকেটে আর টাকা নাই।

কালকেই ২০০ কম্বল কিনে ফেলা হচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা সাতক্ষীরা রওনা হচ্ছি পরশু। আমার কেন যেন সবকিছুর শেষে এসে দাঁড়িয়ে খুব ক্লান্ত লাগছে।

তৌফিক ভাইয়ের কাম করতে গেসিলাম আইইউটি। ট্রান্সক্রিপ্টের ফর্ম জমা দেবার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেজিস্ট্রারের রুমে ডাক পড়লো। আমি বেকুব হয়ে যাবারও টাইম পেলাম না। তার আগেই দেখি রেজিস্ট্রারের সামনে মুখ কাচুমাচু করে দাঁড়ায় আছি আর ঝাড়ি শুনতেসি। ঝাড়ির বিষয়বস্তু এতদিন পরে দ্বিতীয়বারের মত ট্রান্সক্রিপ্ট কেন তুলতে হবে। তাও আবার একজনের টা আরেকজন । কত্ত বড় সাহস। আমি বলার মত কিছু খুঁজে পাইলাম না। বেকুবের মত দাঁড়ায় থাকলাম । তারপর মিন মিন করে বলার চেষ্টা করলাম স্যার আমি তো বাহক মাত্র। চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকিব। শুনে টুনে বললো আসলে সে কথাগুলা ঐ বড় ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলসে। আমার নিজেরে আরো বেকুব মনে হতে লাগলো। তাইলে এতক্ষণ আমার দিকে তাকায় ঝাড়ি দেবার মানে কি?

তারপর আমি পারলে দৌড়ায় দৌড়ায় বাসায় ফিরে আসি। আমার তাড়া বুঝতে পেরে দুলদুল বাস সাধারণ সময়ের চেয়ে আরো বেশিক্ষণ অপেক্ষা করলো। আমি তাই মোবাইল স্ক্রিণে ক্রিকইনফোর দিকে সব মনযোগ দিলাম। এয়ারপোর্টে কাছাকাছি যখন তখন শেষবারের মত ক্রিকইনফো দেখে মোবাইল পকেটে ভরলাম। এখনো কেউ আউট হয়নি। মন ভালো না হয়ে উপায় কি।
তার পাঁচ মিনিট পর বাসায় ঢুকেই তাওসীফ কে জিজ্ঞেস করলাম কি অবস্থা। যা শুনলাম সেইটা ঠিক অবস্থা না, দুরবস্থা।

৫৯ রানে তিনটা। কোন মানে হয় ?

আমার কনসেন্ট্রেশন আরো অনেক অনেক অনেক বাড়ানো দরকার। পড়া মুখস্থ করার জন্যে না। আরেকটু ভালো থাকার জন্য। I need to break the pattern badly..

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s