ঢাকা

তো ব্যাপারটা আসলেই অদ্ভূত। আমি এখন সার্টিফিকেটধারী বেকার। হিসেব অনুযায়ী আমার কোন কাম কাজ থাকার কথা না। কিন্তু ডেইলি সকাল বারোটায় ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে যেটা মনে হয় তা হচ্ছে – কত কাম বাকি! তারপর সারা দিন যায় ভুং ভাং করতে করতে। হাতের কাজ হাতেই থাকে। করা আর হয়না। যখন তিনটা চারটার দিকে আমার ম্যাট্রেসটা বিছিয়ে ঘুমানোর বন্দোবস্ত করি আর মশারির দড়ি বাঁধতে বাঁধতে ভাবি যে করেই হোক কালকে সব কাজ শেষ করতে হবে।

ম্যালাদিন হয়ে গেল ঢাকাবাসী হয়ে গেছি। ঢাকাতে দিনগুলা কি একটু বেশি দ্রুত ছোটে? কি জানি। আমার সব কিছু দেখে টেখে তো তেমনই লাগছে। দিনগুলো সব হুশশশ করে কানের পাশ দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে। আমি হা করে খালি তাকায় থাকি আর দেখি। কোন কিছু না করে শুধু তাকায় তাকায় দেখার মধ্যে যে কি মজা! আহা! আরো আগে কেন বেকার হইলাম না!

গত কয়েকদিন ধরে নিজের উপর কন্ট্রোল আবার হারায় ফেলতেসি। ইটস রিয়েলি ফানি। বোঝা যাচ্ছে ডিপ্রেশনের ভুত এত সহজে ঘাড় থেকে নামবেনা। হু হু। অন্তত বিশ বছরের পুরোনো জিনিস। এত সহজে তাড়াতেই বা চাও কেমনে? বেটা বেকুব জিহাদ। কলেজে একক অভিনয়ের একটা লাইন মাঝে মাঝেই মনে পড়ে হুট হাট করে। সম্ভবত জুলিয়াস সিজার এর পার্টটাতে ছিল – be patient, till the last!! সো আমার যে জিনিসটা এইরকম টাইমে দরকার তা হচ্ছে ধৈর্য্য। কাজেই প্রস্তুত হও বৎস। তোমাকে আরো ধৈর্য্য (রাখাল সারের ভাষায় – ধইইরয) ধরতে হবে।

আমি যখন ওয়ার্ডপ্রেস নিজের অন্য ব্লগে লেখা গুলা এখানে এনে জমাতে শুরু করি তখনো ওয়ার্ডপ্রেসে বাংলা ব্লগের সংখ্যা হাতেগোণা ছিল। আজকে হুট করে মাহমুদ এর লিংক ধরে গিয়ে দেখি সংখ্যাটা এখন অনেক বড়। ইন্টারেস্টিং। কারো ব্যক্তিগত ব্লগ পড়ার মধ্যে একটু কেমন যেন অন্যরকম ভাব আছে। মনে হয় কারো বাড়ির উঠোনে পিড়ি পেতে বসে ঘর সংসারের খোঁজখবর নিচ্ছি। হে হে। উপমাটা হাস্যকর হয়ে গেসে। কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু আমার ফার্স্ট টাইম ভিজুয়ালাইজেশনে এমন কিছুই মাথার মধ্যে ভেসে উঠলো। উঠোনের কথা ভাবতেই নানা বাড়ির উঠানের কথা প্রথম মনে হলো। এটা অবশ্য স্বাভাবিক। আমার সবচে সুন্দর আর সবচে প্রিয় মুহূর্তগুলোর খোঁজ করতে গেলে নানা বাড়ির স্মৃতির কাছে হাত বাড়ানো ছাড়া উপায় নাই কোন। আমার পুরোটা শৈশব জুড়ে খালি নানাবাড়ি আর নানাবাড়ি। মাঝে মাঝে ভাবি, যদি এসব স্মৃতির কোনটাই কোন কারণে নিজের কাছে জমা না হতো তাহলে ক্যামনে কি হতো? থ্যাংকস গড। এমন ভয়াবহ কিছু শেষমেষ হয়নাই!

আমাদের আগের বুয়াটা কেমন কেমন জানি ছিল। পাঁচ পাঁচটা জোয়ান পোলা না খায়া আছে জেনেও সে ডেইলি আড়াইটা তিনটার দিকে আসতো। আমরা শালিকের বাচ্চার মত হা করে থাকতাম। কখন বুয়া আসবে আর কখন খাবার হবে। খ্যাক খ্যাক। এইবারের বুয়াটা সেই তুলনায় অনেক ভালো। কিন্তু আজকে কেমন কেমন যেন হয়ে গেছে। রান্না বোধহয় এতক্ষণে শেষ। তবে ঐদিকে দেখি টিভি রুম থেকে (ইমনের রুম) বাংলাদেশ শ্রীলংকা খেলার হৈ হল্লা আসতেসে।

যাই এখন একটা ফুল্স্টপ।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

2 Responses to ঢাকা

  1. রায়হান আবীর বলেছেন:

    উঠানে পিড়ি পাইতা গল্প শুইনা গেলাম 😀

  2. Mahmud faisal বলেছেন:

    উঠানে পিড়ি পাইতা গল্প শুইনা গেলাম ….. আসলেই অনেকে লিখে এখন ব্যক্তিগত কথাবার্তা… আমার ভালো লাগে অনেক। চিন্তার মিল, অনুভব করার ধরনে মিল পাইলে জোস লাগে 🙂

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s