সুখন্তম

আমার আই ইউ টি লাইফের শেষ কয়েকটা দিন কাটছে ঘরের ভেতর থেকে। শেষ করে আসা চার বছরেও কম বেশি ব্যাপারটা এমনই ছিল। কাজেই বলা যায় আমি শুধু আগের অভ্যাসটাই কন্টিনিউ করছি। শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছি আর ভাবছি আহারে আমার রাজার হালে থাকা দিনগুলো!

এলসিডি মনিটরের সবচে বড় সুবিধা হচ্ছে আমি এখন চাইলেই কোন রকম ক্যাচাল ছাড়া বেডের দিকে ঘুড়িয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে মুভি দেখতে পারি। আগের মনিটরে যেটা করা ছিল বিশাল ঝামেলার কাম। এত স্বাস্থ্যবতী মনিটর আমার, সহজে নড়াচড়া করতে চাইতোনা। কিনতু সমস্যাও আছে। দেয়ালের সাথে বালিশটা রেখে মুভি দেখতে দেখতে এখন অজান্তেই কেমন চোখ বুজে আসে। শুয়ে শুয়ে গ্রেট এক্সপেক্টশন দেখছিলাম। কিন্তু দুই চোখ নিয়ম করে বেঁকে বসলো। তাই দেখা বাদ্দিয়ে ভাবলাম একটু কীবোর্ড নিয়ে খেলাধূলা করি।

খালামণি অনেকদিন ধরেই পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস দেখতে বলছিল। কিন্তু আমার আলসেমিতে আর হচ্ছিলনা। পরশু দেখে ফেললাম সেটা। কারণ হতে পারে সেই এলসিডি ম্যাটারটাই। ওয়াইড স্ক্রীণে মুভি দেখার ভাবই আলাদা। আর একটু দূরে থেকে দেখলে বোঝাই যায়না আমার এখনো ডাইনোসর যুগের ৩২ এম বি বিল্ট ইন এজিপি কার্ড! 😀

আমার একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, বোধহয় সবচাইতে বড় সমস্যা, আমি আমার অনুভূতিগুলোকে ঠিকঠাক গুছিয়ে রাখতে পারিনা। এই যেমন পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস মুভি টা – তুমি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করো কেন ভালো লেগেছে তবে আমি ঠিকঠাক সাজিয়ে ভালোলাগাটা বলতে পারবোনা। অথচ ভালো যে লেগেছে সেটা একশো দশ ভাগ সত্যি কথা। হয়তো আমি কোন কিছুই গভীর ভাবে ভাবতে পারিনা। অথচ আমি দিন রাত অনেক ভাবি। এবং কোন সন্দেহ নাই তার অনেক বড় অংশ যায় আজাইরা ভাবনাতে ।

মজার এবং হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে আমি চাইলেই এখন নামের সামনে ইঞ্জিনিয়ার লাগাতে পারি! খ্যাক খ্যাক খ্যাক। এই সপ্তাহেই রেজাল্ট দিলো। এবং আমাকে অবাক করে জোকো এবং ইকবাল স্যার ভালো মানুষের মত তাদের সাবজেক্ট এ পাশ করায় দিলো! আমি খুব টেনশনে ছিলাম। পন্ডিতি করে আগেই বাসায় বলে রাখসিলাম তোমরা কনভোকেশনে না আসলে আমি কিন্তু খেলবোনা! কিন্তু পরে পরীক্ষা দিয়ে অবস্থা দেখি গুরুতর। খেলা শেষ হওয়ার আগেই লাল কার্ড খেয়ে সাইডবেঞ্চে চলে যাবার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো। শেষ পর্যন্ত খারাপ কিছুই হয়নি। এটা ঠিক, একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে মনে হচ্ছিল আমি ঠিকই পাস করে যাবো।

আমার গত কয়েকটা দিনের সবচে বড় উপলব্দি হচ্ছে- সুখী থাকতে খুব বেশি কিছু লাগেনা। টাকা লাগেনা, হট কোন গার্লফ্রেন্ডও লাগেনা, ওয়ান এম বি পি এস নেট কানেকশনও লাগেনা। শুধু যদি কোন ভাবে মন থেকে ভাবতে পারো সুখ কিংবা দু:খ দুটো অনুভূতিই তোমার নিজের তৈরী করা, কেউ তোমাকে সুখী কিংবা অসুখী থাকার জন্য পেছন থেকে গুতোও দিচ্ছেনা কিংবা কেউ তোমার অনুভূতি চুরি করেও নিয়ে যাচ্ছেনা, যদি ভাবতে পারো তুমি চাইলেই তুমি সুখী হতে পারো তাহলে সবকিছু হঠাৎ করে অনেক অনেক সহজ হয়ে যায়।

আর সুখী থাকার সবচে বড় শর্ত হচ্ছে সবকিছু সহজ করে ভাবতে পারা!

আমি বলছিনা হুট করে আমি একদম সুখী হয়ে গেছি। কিন্তু আমি এখন অন্তত জানি, আমি একটু চাইলেই বেশির ভাগ সময় আমি সুখী থাকতে পারি!

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

One Response to সুখন্তম

  1. রায়হানের প্রেতাত্মা বলেছেন:

    সুখে থাকতে টাকা লাগে। এটলিস্ট নিরবিচ্ছিন্ন বিড়িফুকার টাকা তো অবশ্যই।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s