ঘুমেলা

খুব ব্যস্ত একটা দিন গেল আজ।

জোকোর পরীক্ষাটা খুব খারাপ দিলাম আজ । আই ইউ টি লাইফের শেষটা এমন খারাপ না হলেও হতো। আমি খুব ভয়ে আছি। কারণ জোকো আমাকে মোটেও পছন্দ করেনা। আমার মুখ দেখলেই মনে হয় তার সাদা গোফ দুই ইঞ্চি খাড়া হয়ে যায়। অথচ আমার কোন দোষ নাই। শুধু তার ক্লাসে এটেন্ডেস একদমই নাই এই যা।

তারপর আই ইউ টি আজ পানিতে ভিজলো, যদিও আকাশে এক ফোঁটা বৃষ্টিও ঝরেনি।

আমি যাইনি, কারণ পরীক্ষা দিয়ে এসে মনটা ভীষণ রকমের কাঁচুমাচু হয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে ছিল। ভাবতেই পারছিনা কনভোকেশন মিস করতে হবে কোন কারণে।

তারপর সন্ধ্যায় কলেজের জুনিয়রদের পার্টি ছিল। আগের বছর থেকে এই ট্রেন্ডটা আমরাই শুরু করেছিলাম। গেলাম এফ এফ সি তে। তারপর সারাক্ষণ হাসি হাসি মুখ করে বসে থাকলাম। দরকার মত হাসির জবাবে হাসিই দিলাম। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম আমার ভেতরের ভীষণ রকমের বিরক্তিকর ইমোশনগুলো হাচড়ে পাচড়ে সামনে আসতে চাইছে। কিন্তু আমার মনে হয় আমি এখন ভালো থেকে খারাপ ইমোশনগুলো আলাদা করে চিনতে পারি। আমি এখনো বুঝে উঠতে পারিনি ঠিকমত এদেরকে ঠিক কিভাবে ডীল করা যায়। কিন্তু এই যে এদের কে ঘাড় ধরে ধরে আলাদা আলাদা করে সনাক্ত করতে পারা – এটাও আমি এখন ধনাত্নক দৃষ্টিতে দেখতে পারি। তারপর স্বভাবসুলভ মুড অফ করা স্টেট গাট্টি বোচকা নিয়ে হাজির। আমি চোখ কুঁচকে সেগুলোকে জায়গা ছেড়ে দিলাম। কিন্তু আকারে ঈঙিতে বলে দিলাম – তোমাদের আর বেশি দিন জায়গা হবে না হে।

সবচে মজার এবং দুর্দান্ত ব্যাপারটা ঘটলো উত্তরা থেকে ফেরার পর।

(দুর্দান্ত এবং মজার ঘটনা বলার ঠিক আগ মুহুর্তে জুম্মা আমারে ডেকে নিল। আর আমি গিয়ে ওর পিসিতে জাভা সেটআপ দিয়ে ওর প্রজেক্ট সফটওয়ারটা রান করিয়ে দিয়ে মাত্র ফেরত আসলাম। এরই মধ্যে প্রায় এক ঘন্টা হাপুস হয়ে গেসে)

রুমে ফিরে একটু বসতেই দেখি করিডোর দিয়ে হাসনাই আর শুভ যাচ্ছে। হাতে দুইটা ঘুড়ি আর নাটাই। এই রাতের বেলায় কই যায় সেটা একবারও না ভেবেই পিছু নিলাম। তারপর একেবারে শেষ মাথায় চারকোণা ফুটা টা , যেটার দিকে তাকালেই আমার প্রথম মনে হয় ঐ খান থেকে পড়ে গেলে ঠিক কোন কোন হাড় লন্ডভন্ড হতে পারে , সেখানে গিয়ে পৌছালাম। ততক্ষণে বোঝা হয়ে গেছে কোথায় যাচ্ছি আসলে। ছাদে গিয়ে আমি ব্যাপক রকমের হা হয়ে গেলাম। আকাশ এবং ছাদ – দুটোই নতুন করে ধরা দিলো চোখে। এর আগে সেভাবে ছাদে ওঠা হয়নি। রাতের বেলায় তো নয় ই। তারপর শুভ, আমি মিলে একটা ঘুড়ির পিছে লাগলাম। বাতাসগুলো সব ঘুমিয়ে ছিল। যারা জেগে ছিল তারাও ছিল ভীষণ রকমের আলসে। কিন্তু দমে না গিয়ে চেষ্টা করতে থাকলাম। একসময় ঘুড়িটা বাধ্য ছেলের মত রাতের আকাশে উঠে গেল একে বেকে। সুতা ছাড়তে ছাড়তে অনেকদূরে গেল যখন, তখন হাসনাইন এসে বললো – ঘুড়ি কোথায়? ওটাও কি তারা হয়ে গেল?
আমরা তাকিয়ে দেখলাম ওটা আসলেই কেমন যেন মিটমিট করে জ্বলছে মনে হচ্ছে।
আমি ক্লাস ফোর এর পর আবার আজ নাটাই হাতে তাকিয়ে থাকলাম মিটমিটিয়ে ওড়া ঘুড়ির দিকে। রাতের আকাশে ঘুড়ি ওড়ানো আগে কখনো হয়নি। হয়তো আর কখনো হবেও না।

আর ভাবতে লাগলাম চারটা বছর কিভাবে উড়ে গেল , নাটাই হাতে নিয়েও টেরও পেলাম না।

তারপর আরো কিছু লেখার ছিল। কিন্তু এই চারটার সময়ে এসে আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। কালকে উঠে আবার প্রজেক্টের জন্য প্রোগ্রামিং শুরু করে বাকিটুকু শেষ করতে হবে। পরশু প্রেজেন্টেশন।

ঘুম ঘুম ঘুম।

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s