আলসে

ঠিক এই মুহূর্তে করার মত কিছু খুঁজে পাচ্ছিনা।

বাইরে অনেক বাতাস। একটু পর পর বন্ধ জানালায় আছড়ে পড়ে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঝড় বোধহয় আসবেনা শেষমেষ।

আজকে এক্সপি রি-ইনস্টল করে কি ঝামেলায়ই না পড়লাম! এক্সপি ইন্সটল শেষে রিবুট করতে গিয়ে দেখি বিলগেটসের ক্ষুদ্র নরম জানালা দিয়ে আমার গ্রাব লোডার কোথায় জানি হাপিস হয়ে গেছে। এরপর তুহিন এসে অনেকক্ষণ ট্রাই করলো। শেষমেষ মাথা নেড়ে ওও বাই বাই বলে দিল। আর আমি লাইভ সিডি দিয়ে নেটে ঢুকে সারা বিকেল সারা বিকেল সারা সন্ধ্যা এবং অনেকখানি রাত পর্যন্ত উবুন্টু পাড়ায় ঘুরে বেড়ালাম সল্যুশনের আশায়। এবং ঘুরতে গিয়ে আমি চমৎকার কিছু মানুষের সন্ধান পেলাম। যারা একটুও বিরক্ত না হয়ে আমার কথাগুলো শুনলো। প্রয়োজন মত ইন্স্ট্রাকশন দিয়ে আউটপুট জানতে চাইলো। একগাদা বিরক্তিকর আউটপুট দেখে তারা কিন্তু মোটেও বিরক্ত হলোনা। বরং যতবার আমি মুখ কালো করে বললাম তোমার সল্যুশনটা আমার কাজে লাগেনি তখন ওরা আরো অনেক অনেক বেশি উৎসাহ নিয়ে একের পর এক উপায় বাতলে দিতে লাগলো আমাকে। যে মানুষটা আমাকে সবচে বেশি সাহায্য করলো ওর নাম meierfra. এবং আমি অনেকক্ষণ নামটা উচ্চারণ করার চেষ্টা করলাম। আমার মাথায় ঢুকছিলনা এটা ঠিক কোন দেশের মানুষের নাম হতে পারে। শেষে জিজ্ঞেস করে জানা গেল ও জার্মান এবং এখন ইউ এস এ তে থাকে। আমি ওকে শেষমেষ এসে ছোট্ট একটা ধন্যবাদ দিলাম। যদিও জানতাম ও এতক্ষণ ধরে আমাকে সাহায্য করেছে শুধু ছোট্ট একটা ধন্যবাদের আশায় নয়..
তারপর আমি সমাধাণ পাবার পর অনেকক্ষণ বসে বসে ভাবলাম এই মানুষগুলা এত বেশি কেমন করে জানে। লিনাক্সে ওদের জ্ঞান দেখে আমার খুব হিংসা হলো। অক্ষমদের জন্য বোধহয় এটাই সবচে উপযুক্ত এবং সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

কালকে রাতেও দশটার দিকে বৃষ্টি হচ্ছিল। ক্যাফেটেরিয়া খাওয়া শেষে হঠাৎ করেই আমার বৃষ্টিতে ভেজার ভুত চাপলো মাথায়। বাইরে বসে থাকা পোলাপাইনগুলারে বল্লাম কেউ আগ্রহী কীনা।রাজি হলোনা কেউই। শেষমেষ একাই নেমে পড়লাম। আর কিছুক্ষণ পরে মনে হলো ইচ্ছেটা খুব বেশি সুবিধার হয়নি। কারণ বাতাসটা প্রচন্ড ঠান্ডা ছিল। আমি হিড়হিড় করে কাঁপছিলাম আর ভিজছিলাম। স্ট্রীট লাইটের আলতো অন্ধকারের নিচে মাথা গুঁজে ভিজতে ভিজতে আমি দাঁতে দাঁতে বাড়ি খাবার শব্দটুকু প্রাণপণে চুপ করিয়ে রাখতে চাচ্ছিলাম। শেষমেষ দশমিনিটের মত ভিজে সোজা পাঁচতলায়। কিন্তু তারপরও ভাল্লাগছিল। কারণ আমি আমার ইচ্ছেটুকুকে একটুও ছোট ভাবিনি।

আমি এত অলস যে ক্যান। আমার আর লিখতে ইচ্ছা হচ্ছেনা। অথচ আর দ্বিগুণ কথা এখনো লাইনে দাঁড়ানো। সবাই শব্দ কিনে নিজেদের সাজাতে আগ্রহী। খালি সমস্যা হলো শব্দ বিক্রেতা একটু বেশি রকমের অলস!

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s