একাকী একটুশ!

আমরা পুরা মেকানিক্যাল ব্লকে আছি মাত্র তিনজন মানুষ। আমি, মারুফ আর জুম্মা। মারুফ একটু আগে আমার রুমে আসলো। বললো – “দোস্ত, ঢাকা যাচ্ছি। আমাকে ছাড়া ডিনার করিস না কিন্তু। ” ওর চেহারায় কিছু একটা ছিল। আমি ধাম করে একটা ঢিল ছুড়লাম। “তুই কি ডেটিং এ যাচ্ছিস?” এই কথাটা লিখতে লিখতেই একটা মেসেজ এসে রিংটোনটাকে জোর করে জাগিয়ে তুললো। আমি জানি এটা কে দিয়েছে। এবং আমি কীবোর্ডটাকে একটু আরাম করতে দিয়ে মেসেজটা পড়ে নিলাম। হু, ভুল ভাবিনি। সকালে এস এম এস দিয়ে বললো দুনিয়া উল্টায় গেলেও সে আজকে আই ইউ টি তে আসতেসে। তো এইখানে আমার বলা না বলার কি আছে? এই জন্য আমি কিছু বলিনাই। আর সেটাকেই সে না ধরে নিয়েছে। আর এইটা নিয়ে এস এম এস এ লিখে লিখে বলতেসে আমি নাকি আসতে না করসি! আজিব! তো আমাকে ঐ কথাটা বলার কি দরকার ছিল।

যা বলছিলাম। মারুফ আমার কথা শুনে কেমন একটা হাসি দিল। আর তার সাথে কিছু বলার চেষ্টা করলো। আমি সেই সুযোগ দিলাম না। একটা শয়তানী টাইপের হাসি ওর দিকে ছুড়ে দিলাম। “যা ডিস্টার্ব দিসনা। ডিনারের আগেই ফিরিস।” আর মারুফ আমাকে আর কোন ডিস্টার্ব না দিয়ে সত্যি সত্যি চলে গেল!

তো তারপর কি হলো। মারুফ চলে যাবার পর পুরা ব্লকে আমরা দুই জন হয়ে গেলাম। জুম্মা নিশ্চিত ভাবেই সিরিয়ালি সিরিয়াল দেখতেসে একটার পর একটা। আর আমি? হুম। কোন কিছু না করতে করতে অনেক কিছু করছি। কালকে রাত থেকে ধুমায়া অর্থহীন শুনতেসি। শুনতেসি আর ভাবতেসি। এত সুন্দর সুন্দর লিরিকসগুলা সুমন কার কাছ থেকে চুরি করলো। আমি অনেক দিন পর কালকে রাত সোয়া চারটার দিকে “হয়তোবা” ছাড়লাম। তারপর পিসির সামনে বসে বসে চুপচাপ মুভি প্লেয়ারে সুরগুলোর ওঠানামা দেখলাম। সাথে সাথে ওঠানামা করলো আমার অনুভূতিগুলো।যারা অনেকদিন ধরে আমার সাথে আছে। দিনের বেলায় ছায়া হয়ে, আর রাতের বেলায় আরেকটু গাড় অন্ধকার হয়ে।

তারপর আমি ঘুমাতে গেলাম পৌণে পাঁচটায়। সাড়ে নয়টার দিকে এলার্ম শুনে ঘুম ভাঙলো। তখন ঘুমের কথামত আমি এলার্মটাকে একটা চাটি মেরে থামিয়ে দিয়ে আবার ঘুমাতে গেলাম। এবং তখন হলো আমার সবচে পিকিউলিয়ার স্বপ্ন দেখার শুরু। আমি শেখ হাসিনাকে স্বপ্নে দেখলাম। আর আমার শেখ ওয়াজেদ জয় এর সাথেও অনেকক্ষণ কথা হলো! 😦 আমি ঘুম থেকে উঠে অনেক ভেবেও এমন কিম্ভূতকিমাকার স্বপ্ন দেখার কোন মানে খুঁজে পেলাম না। কেনই বা আমি শেখ হাসিনাকে দেখলাম, আর কেনইবা জয় এসে আমার কাছে সিসিবিতে কিভাবে কি করতে হয়ে সেটা জানতে চাইলো! আমার কি তাহলে স্বপ্ন দেখার মানুষও শেষ হয়ে যাচ্ছে! আমি তো ঐ অডিও টেপ শুনেও দেখিনাই। আর ঐ যে ইউটিউব যেইটাতে কিছু পাজি লোক আপনার কথাবার্তা আপনাকে না জানিয়ে টাঙিয়ে দিয়েছে তারা কেউই আমার মামা চাচা হয়না। বিশ্বাস করুন! আর প্লীজ আমার স্বপ্নে আর আসবেন না আপ্নারা দুইজন! আপনাদেরকে আমার স্বপ্নে ব্যান করা হলো!

আর তারপর ঘুম থেকে উঠেই এস এম এস টা দেখলাম। ছোট্ট করে একটা রিপ্লাই দিলাম। আমার মাথার কাছে বসে সাফওয়ান তখন এনিমে নামাচ্ছিল নেট থেকে। ওর দিকে ঘুম চোখে তাকাতেই সাফওয়ান একটা খুশি খুশি হাসি দিলো। কারণ ওর দুইটা এনিমে ডাউনলোড করা হয়ে গেছে এর মধ্যে। একেকটার সাইজ ৭৫ এম বি করে। শুনে আমার কোন অনুভূতি হলোনা। কারণ এইসব এনিমেশন সিরিয়াল দেখে কি মজা আমি সেটা ফোর্থ ইয়ারে পড়া একটা বড়(!) মানুষ হয়েও বুঝতে পারলামনা এখনো 😦 তবে আমার মনে হয় খুশি হওয়া উচিত ছিল নেট স্পীড এর কথা ভেবে। কারণ অর্ধেক রাতে দেড়শো মেগাবাইটের মত ডাউনলোড! তাও আইইউটিতে বসে। তাও আবার জিপির সিম দিয়ে!! ব্যাপারটা শেখ হাসিনার সাথে স্বপ্নে গোলটেবিল বৈঠকের চেয়ে কম ভয়ানক কথা নয়!!

আর তারপর… তারপর.. একা একা আমি এদিক ওদিক ছুটোছুটি করলাম। একবার গিয়ে করিডোরে দাঁড়াই, চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরো পৃথিবীর ব্যস্ততা দেখি।কিছু ক্ষণ দেখেটেখে মনে হয় ফিরে যাওয়া দরকার। আর তারপর নিজের রুমের ছোট্ট পৃথিবীতে ঢুকে পড়ি আবার। যেখানে সামীরের বেডের উপর সুনীলের “সত্তর বছর” শুয়ে আছে আলসেমি করে; একটা আঁধখোলা ঝুলে থাকা মশারী, মেশিন ডিজাইনের মোটকু একটা বই, ক্রিয়েটিভ স্পীকারের ভেতর পা ঝুলিয়ে বসে থাকা অর্থহীনের গান; আর আছে একটা মানুষ… যার এখন নিজের মত করে আলসেমি করার জন্য আছে অনেকটুকু সময় … আর নিজের মত করে বকবকানি লেখার জন্য আছে মাথার উপর থেমে থাকা এক চিলতে নীল উঠোনের মেঘ…

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s