আলতো কিছু

এই কয়দিনে এত এত ব্যাপার ঘটে গেল অথচ আমি কিছুই লেখলাম না। আর যখন দুইদিনের ছুটি কোন কিছু না করেই কাটিয়ে দিলাম তারপর আজ এসে মনে হলো- ওহহো, আমি তো কিছুই লিখলাম না!

লাস্টের দুইদিন কিছু করিনি এইটা বলা বোধহয় ভুল হবে। কারণ আমি মোটামুটি পুরো দুইদিনই পিসির সামনে চোখ কুঁচকে বসে ছিলাম। আর চোখের অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে গেলে স্বপ্নীল এর হাতে ড্রপটা ধরিয়ে দিয়ে বললাম বাছা, একটু কষ্ট করে চোখে দিয়ে দাও তো।

আর আমি এই দুইদিন বেশ ভালোই ছিলাম। আমি পিএইচপি শিখতে চাইনি কোনদিনই। কিন্তু লাস্টের দুইদিন কেবলি মনে হচ্ছে আমার পিএইচপিটা খুব কুইক বেসিস এ শিখে ফেলা দরকার । কারণ অনেক সময় ছোটখাটো প্রবলেম সলভ করতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছি। আর সত্যি বলতে কি ওয়েব ডেভেলপিং নিয়ে কাজ করতে আমার খুব মজা লাগছে। সি এস এস শিখবো না শিখবো না করেও শুধু খুটখাট করতে করতেই অনেক কিছু শিখে গেছি। আর জাভা তো আছেই। এই তিনটাই যদি আস্তে আস্তে ভালোমত শিখে ফেলতে পারি তাইলে কেমন জোস্ হবে!

সত্যিই যদি এমন হয় তাইলে ইকবাল স্যারকে একদিন গিয়ে বলে আসা যাবে যে – স্যার, আপনার সাবজেক্টে D গ্রেড আর ল্যাব ক্লাসে দেয়া বিনামূল্যের ঝাড়িগুলা আমার জীবনে তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু হয়ে ওঠতে পারেনি আর শেষমেষ।

কারণ তাহলে আমি ঠিক করেছি আমি আমার নিজের পছন্দমত ক্যারিয়ার গড়তে পারবো। কেউ যদি চাকরি না দেয় তারও ধার ধারিনা। তাহলে আরো বেশি ভালো। কারণ আমার গৎ বাঁধা চাকরি মোটেও ভাল্লাগেনা। এবং আমি আমার নিজের মত করে ক্যারিয়ারটা সাজাতে চাই।

আমি মানছি বর্তমান লাইনে পড়াশুনা করতে চাওয়াটা আমার খুব বড় একটা ভুল ডিসিশন ছিল। ইচ্ছে করলেই সি আই টি নেয়া যেতো।

কিন্তু আমি এও বিশ্বাস করি ভুল শুধরে আবার সঠিক সিদ্ধান্তটা নেবার সময়ও এখনো শেষ হয়ে যায়নি। কারণ বাইশ বছর খুব বুড়ো কোন বয়স নয়। আমার আসলে কিছুই এখনো শেষ হয়ে যায়নি….

কালকে প্রাইভেট মেসেজিং প্লাগইনটা গুতিয়ে গুতিয়ে কেমন করে যেন ওটাকে ঠিক করে ফেললাম। অথচ এই প্লাগইনটা আমাকে লাস্ট কয়েক মাস ধরে খুব ভোগাইসে। আর আমি সেটা একদিনে করে ফেললাম। আর রায়হান রশিদ ভাইয়ের সাইটের একটা সি এস এস ও ঠিক করে দিলাম। এবং কাজটা মোটেও ইজি ছিলনা। কারণ ওটা কোড করা যত না সহজ ছিল তারচে বেশি কঠিন ছিল ট্রিকি ওয়ে তে সেটাকে ইমপ্লিমেন্ট করা।

ওহ ভালো কথা। বর্ষার ভাইয়ার বিয়ে হয়ে গেল। আমি , তাহসীন গায়ে হলুদ, বৌভাত দুইদিনেই গেসিলাম। গায়ে হলুদের দিন অনেক দিন পর বিয়ে বাড়িতে ভলান্টিয়ার হলাম। 😆 কারণ আমি বেসিক্যালি এইসব কাজে খুব একটা যেতে চাইনা। শুধু বাপের একমাত্র পোলা বলে কুরবানীর ঝক্কিটা শুধু এড়িয়ে যেতে পারিনা। যাইহোক, আমরা দুজন এবং বর্ষার আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে সার্ভ করলাম সবকিছু। এবং ক্যাটারিং এর মামাটা একপর্যায়ে আমার হাতে খাবারের প্লেট দিতে অস্বীকৃতি জানালো। আমি নাকি কয়েকবার এসে তার কাছ থেকে কাবাব নিয়ে গেছি। কি মুশকিল! সার্ভ করতে গেলে বারবার তো তার কাছ থেকে নিতে হবেই আমাকে। যখন বুঝালাম – মামা, কাহিনি হইলো এই। আমি আসলে বারবার নিয়ে গিয়ে নিজে খাচ্ছিনা। বরং অন্যদের খাওয়ানোটা সহজ করে দিচ্ছি তখন সব বুঝে ফেলার মত করে মাথা নাড়িয়ে বললো – “সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমার কাবাব আনা হয়েছে গুনে গুনে ! আমি বেশি দিতে পারবোনা!” কি বিপদ!

আমরা তারপর বৌভাতেও গেলাম। প্রথমে আমি অবশ্য যেতে চাইনি। কিন্তু বর্ষা খুব খুব করে ধরলো। তারপর তাহসীন আর আমি যখন উত্তরা প্রায় পৌছে গেছি তখন দেখা গেল বর্ষার ফোন বন্ধ এবং আমরা জানিনা বৌভাতটা কোন কমিউনিটি সেন্টার এ হচ্ছে। বেশ বড়সড় বিপদের কথা, তাইনা? বিয়ে খেতে যাচ্ছি, অথচ জানিনা ঠিক কোথায় খেতে যেতে হবে। উত্তরা নেমে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং মোবাইল মিস এর মোটেও দু:খিত নন এমন গলায় বলা দু:খিত আবার শোনার আশায় ফোন দিলাম। এবং এইবার ফোনটা গেল। সব জেনে টেনে বর্ষাকে তাহসীন জিজ্ঞেস করলো তুই এখন কোথায়। আর ও কীনা বললো ওরা এখনো কমিউনিটি সেন্টার এ যায়ইনি!!

বিয়েবাড়ির মানুষের আগে আমরা দুই বালক দাওয়াত খেতে পৌছে গেলাম। এমন সময়ানুবর্তীতার পরিচয় আমি আমার সারা জীবনে বোধহয় কখনো দেইনি।

তারপর খুঁজে টুজে যখন কমিউনিটি সেন্টার বের করলাম ততক্ষণে ভাগ্যিস বর্ষা চলে এসেছে। তারপর আমরা দুইজন কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে কিছুক্ষণ চিন্তা করলাম। কারণ বর্ষা ছাড়া ওর বাবা কিংবা ভাইয়া আমাদেরকে সেভাবে চেনেনা। যদি দরজা আটকে দিয়ে সামনে এসে জিজ্ঞেস করে এক্সকিউস মি, আপনারা ঠিক কোথায় যেতে চাচ্ছেন। তাহলে আমরা কি বলবো মনে মনে সেটাও ঠিক করলাম। হা হা হা।

কিন্তু দরজায় দাড়িয়ে থাকা নয়ন ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আমি একটা খুব চেনা চেনা টাইপের একটা হাসি দিলাম। আর বললাম ভাইয়া, কেমন আছেন। ভাইয়া আমাকে সেই হাসি দুই দিয়ে গুন করে ফেরত দিলেন। আমরা ফুড়ুৎ করে ভিতরে ঢুকে গেলাম। খিক খিক খিক। আল্লায় বাঁচাইসে যে আমাদের প্রথম করা ধারণাটা ঠিক হয়নি!

তারপর ভেতরে ঢুকে বর্ষার সাথে দেখা হল এবং আমি আর তাহসীন আংকেল টাইপের কয়েকজন মানুষের টেবিলে বসে পড়লাম। কারণ তখনো নির্জনা, রাহা, সায়েদ, সাকিব রা আসেনি। এবং সেই টেবিলে বসে বসে আমার সামনের আংকলের ফ্লপ জোকস শুনতে লাগলাম। মানুষটা সবকিছুতেই কিছু না কিছু ফানি কিছু খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিল এবং কোন উদ্ভট টাইপের জোক করে নিজে নিজেই হাসছিল। এবং পুরো ব্যাপারটা ছিল খুবই হাস্যকর।

এবং একটা ব্যাপার খুব মজা লাগলো আমার। আমি বোরহানী জিনিসটা একদমই খেতে পারিনা। কিন্তু সেদিন যেন কেমন কেমন করে পুরো দুইগ্লাস খেয়ে ফেললাম। ওটা সত্যিই অনেক ভালো হয়েছিল। আর পুরো খাবারটাই আসলে। কারণ অনেকদিন পর বিয়ে বাড়িতে আমি অনেক বেশি খেয়েছি।

গায়ে হলুদের দিনের মত আমরা বেশি রাত এরপর থাকিনি ওখানে। কারণ তাহসীন বাসায় চলে যাবার জন্য ব্যাগ সাথে করে নিয়ে এসেছিল। চলে আসার আগে বর্ষা বললো দাঁড়া, তোদের সাথে একটা ছবি তুলি। এত ভীড়ের মধ্যে জায়গা খালি ছিলোনা কোথাও। তাই আমরা একদিকের দেয়াল ঘেষে দাঁড়ালাম। তারপর ক্যামেরম্যান ছবি তোলার পর চলে আসার সময় তাহসীনের ব্যাগের সাথে একটা গ্লাস কেমন করে যেন আটকে গেল। এবং সেটা মেঝেতে পড়ে ঝন ঝন শব্দে অনেকগুলো টুকরো হয়ে গেল। তাহসীনকে খুব বিব্রত দেখাচ্ছিল। কিন্তু আমি অন্যদিকে তাকিয়ে হাসছিলাম। আর বাকি সব মানুষ সব কথা বন্ধ করে আমাদের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলো।

সব মিলিয়ে শুরু এবং শেষ খুব মন্দ হয়নি!

এতদূর লেখার পরও মনে হচ্ছে অনেক জায়গায় অনেক কিছু লিখতেই ফাঁকি দিয়েছি। কিন্তু সেটা পূরণের কোন ইচ্ছাই নেই। আমার প্রচন্ড খিদা লাগসে এবং আমি স্বপ্নীলের জন্য ওয়েট করতেসি। কারণ আমি ওকে বলে দিয়েছিলাম টিউশনি শেষে আমার জন্য যেন কিনে নিয়ে আসে কিছু।

ওহ আরেকটা কথা। আমাদের ক্যাফেটেরিয়া তে বার কোড সিস্টেম চালু করেছি। এখন থেকে সব বেলায় খাবার খাওয়ার সময় আই ডি কার্ডটা ঘ্যাচ করে বার কোড রীডার এ ঢোকাতে হবে। তাহলে ডাটাবেজ এ সেটা থেকে যাবে কোন বেলায় কে কে খেল। কারণ আমরা যেন একবারের বেশি খেতে না পারি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রথম পদক্ষেপ যে আই ইউ টি থেকে শুরু হবে সেটা আমি মোটেও ভাবিনি!

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

One Response to আলতো কিছু

  1. রায়হান আবীর বলেছেন:

    * কামরুল ভাইয়ের এক বন্ধুর দাওয়াতে গেছিলাম। আমরা সবার আগে উপস্থিত। বর পক্ষ কনে পক্ষ কারই খবর নাই।

    * বোরহানী আমার খুব পছন্দ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s