ঝিমপাড়ানি মাসি পিসী

কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করছে। সেটা খুব বেশি অর্থবোধক হতে হবে এমন কোন কথা নেই। হিসেব করলে দেখা যাবে দিনে যা করি তার ৯৯% এরই কোন রকম অর্থ থাকেনা। বরং অনর্থই বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে ।

কাজেই আমি “কিছু একটা” লিখবো। শুধু লেখার জন্য নয়। বরং আমার ইচ্ছেটাকে সম্মান জানানোর জন্য। মাথার ভেতর এত এত বড় সব ইচ্ছে সারাক্ষন জায়গা দখল করে রাখে। আর এরকম ছোট ইচ্ছেগুলোকে বড় বেশি অবহেলা করা হয়। আমি খুব নিয়মিত ভুলে যাই মাথার ওপর আকাশ টা যেমন সুন্দর, তেমনি সুন্দর পায়ের নিচে চোখে না পড়ার মত ফুটে থাকা ঘাসফুলগুলো।

ইস্! কতদিন ধরে আমি ঘাসফুল দেখিনা! আমি যখন মুকুল একাডেমীতে পড়তাম, আরো ভালোভাবে বললে আমি যখন আমাদের বাসায় নিজের বিছানায় ঘুমুতাম তখন আমাদের বাসার চিলতে জায়গাটুকুতে আমার নিজের মত করে একটা বাগান ছিল। সেখানে গোলাপ ছিল, রজনীগন্ধা ছিল। আর বাউন্ডারী ঘেষে এককোণায় একটা হাসনাহেনা ছিল। আর পথের দুপাশ দিয়ে খোঁয়া ওঠা রুক্ষ রুক্ষ ইটগুলোর পাশে কিছুটা ভালোবাসা মেশাতে ঘাসফুল এনে লাগিয়েছিলাম। আমি প্রতিদিন ব্যাক প্যাক ঝুলিয়ে সেই সকাল সাড়ে সাতটায় আমি যখন স্কুলের পথে বেরোতাম ঘাসফুলগুলো তখন আমাকে মিস্টি হেসে গুডমর্ণিং জানাতো। আমিও সমান ভালবাসা নিয়ে ওদের সেই মিস্টি হাসি ফিরিয়ে দিতাম। কারণ ঘাসফুলগুলো অন্যদের চে অনেক ছোট ছিল। আর ছোট ছিলাম আমিও।

আমি হাসনাহেনাও খুব ভালবাসতাম। রাতের বেলায় আমাদের বাসার হাসনাহেনাটা নিজের জন্য কিছুই না রেখে সবটুকু গন্ধ ও আমাদের জন্য বিলিয়ে দিত। আমি চুপচাপ বারান্দায় গিয়ে তা’ কুড়িয়ে আনতাম। কারণ আমি হাসনাহেনার সুবাস খুব ভালবাসতাম।

আমি মিস করি বাগানবিলাসী গাছটাকেও। মাথাভর্তি ঝাকড়া চুলে ও আমাদের ভেতরের উঠানে দাড়িয়ে ছিল সটান হয়ে। ওর ফুলগুলো পুরোপুরি লাল ছিলনা। কিন্তু দেখতে মোটেও অসুন্দরও ছিল না। তখনো আমাদের চারপাশে এত এত বাসাবাড়ি হয়নি। অনেকদূরে থেকেও ঠিক ঠিক চোখে পড়তো। রুক্ষ সুক্ষ চেহারা নিয়ে আর সারা গায়ে ফুল জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আমার বাগানবিলাসীটাকে চোখে পড়তো তারো আগে।

এখন ওদের কিছুই নেই আমাদের বাসায়। আমাদের বাসাটা চিনতেও একেবারে কাছাকাছি চলে এসে দেখতে হয়। দূরে থেকে আর দেখা যায়না আগের মত। আমিও আস্তে আস্তে ভুলে গেছি হাসনাহেনার গন্ধ কেমন তীব্র হতো। আর ঘাসফুলেরা ঠান্ডা ঠান্ডা সকালগুলোতে শিশির মেখে ঠিক কেমন করে হাসতো…

সামনে আবার তিনদিনের একটা বড়সড়ো সাইজের ছুটি। ইজতেমার জন্য। লাইব্রেরীতে গিয়ে মেকাট্রনিক্স এর দুটো বই তুলে আনলাম। আমি জানিনা আমি ফাকি দেবো কীনা। কিন্তু আমার বইগুলো পড়া খুব খুব দরকার। অন্তত ভার্সিটি থেকে বেরোবার আগে কিছু আত্ববিশ্বাস ব্যাকপ্যাকে ভরে নিয়ে যাওয়া যাবে যদি প্রজেক্টটা ঠিকঠাক করতে পারি।

একটু আগে ঘুম থেকে উঠলাম। মাথা কেমন ঝিম ঝিম মেরে ছিল প্রথমদিকটায়। লিখতে লিখতে একটু জট ছাড়লো। আমার খুব খিদা লাগসে। এবং এরকম পেট খালি অবস্থায় ঘুমুবার পর উঠলে যে অনুভূতিটা হয় সেটা আরো বাজে। এবং সেই অনুভূতিটা নামছেনা কিছুতেই। 😦

হঠাৎ করে আজকেও ঘুম থেকে ওঠার আমার মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল। সারা রুমটা তখন অন্ধকার ছিল। কারণ বাইরের আকাশে তখন বিকেল আর সন্ধ্যা পাশাপাশি খেলা করছে। আমার জানলা দিয়ে সন্ধ্যাবেলার দুয়েক ফোঁটা অন্ধকার ততক্ষণে ঢুকে পড়েছে। আর ওটা দেখে আমার আরো মন খারাপ হয়ে গেল। মশারির ভেতর থেকে বেরিয়ে যখন চেয়ারে এসে বসলাম তখন মেজাজটাও খারাপ হয়ে গেল। কারণ আমার রুমের মশাগুলো আমাকে একটুও স্থির থাকতে দিচ্ছিলনা। যেমন দিচ্ছেনা এখনো। আমি আমার গায়ের চাদরটা পায়ের উপর ছড়িয়ে দিলাম। কিন্তু তাতে ওরা একটুও মন খারাপ করলোনা। বরং আরো আগের চেয়ে জোরে জোরে কামড়ানো শুরু করলো 😦

আমার ইদানীং খুব বেশি মাথা ধরছে। ডাক্তার বোধহয় দেখানো দরকার চোখটা ঠিক রাখতে চাইলে। কিন্তু অন্ধ হয়ে যাবার আগে দেখানো হবে কীনা কে জানে। আমি আজ পর্যন্ত সময় মত না পারলাম কোন কাজ করতে, না পারলাম কোন কিছু মনে রাখতে কিংবা না পারলাম কোন কিছু ভুলে যেতে। আর আমি এমনই….

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

3 Responses to ঝিমপাড়ানি মাসি পিসী

  1. 😦

    আমিও হাসনাহেনার গন্ধ ভুলে গেছি.. ঘাসফুল ও অনেক দিন দেখি না.. হুমম.. চশমা খুব ভালো জিনিস.. আমার এখনো অভ্যাস হয়নি, মাঝে মাঝে চশমা পড়তে ভুলে যাই তারপর আবার চোখ ব্যাথা করতে শুরু করলে মনে পড়ে চশমা পরা হয়নি..

    খুব ভালো থেকো জিহাদ.. খুব খুব ভালো থেকো..

  2. ফয়েজ বলেছেন:

    বাচ্চ বয়সে অন্যের ডাইরী চুরি করে পড়লে যে রকম অনুভুতি হত, সে রকম অনুভুতি হচ্ছে, বুঝতে পারছিনা কি করব?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s