ওফ!

কদিন ধরেই আবার বিষণ্ণতার নিচে চাপা পড়ে আছি। সত্যি বলতে কি মোটেও ভাল্লাগেনা এমন হয়ে থাকতে। কিছুদিন প্রাণপণ চেষ্টা করি। তারপর সব প্রতিরোধ ভুলে গিয়ে আবার আগের মত হয়ে যাই। এর একটা শেষ হওয়া দরকার। জানিনা কিভাবে। কিন্তু শুরু যখন হয়েছে এর শেষ কোথাও না কোথাও ঠিক ঘাপটি মেরে আছে। সেটা আমার খুঁজে বের করা দরকার। এবং আমার আরেকবার শুরু থেকে শুরু করা দরকার….

কালকে গেলাম কামরুল ভাইয়ের বাসায়। আমি আর মুহাম্মদ। যাবার কথা ছিল দেড়টার দিকে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ছয় রানে পাঁচ উইকেট দেখার পর কে টিভির সামনে ছেড়ে উঠবার কথা মাথায় আনবে। শেষমেষ সবচেয়ে জঘন্য আশঙ্কাটাকে লুফে নিয়ে সাংগাকারা আর জিহান মুবারক মাটি কামড়ে থাকতে থাকতে যখন একসময় দাঁড়িয়ে গেল ভাবলাম এখন বোধহয় যাওয়া যায়। মেডেলিয়নের সামনে থাকতেই রায়হানের ফোন। ও তখনো বাসাতেই। খেলা দেখছে আর সবার মত। এবং তখনকার স্কোর শুনে আরেকবার আশাবাদী হয়ে উঠলাম। বাসায় গিয়ে ঠিক মত বসতে না বসতেই সাকিব আসলো বল হাতে। আর ধুম ধাম করে দুজনকে ড্রেসিং রুমে পাঠিয়ে দিল। আমি খুব এক্সাইটেড ছিলাম। এবং খেলার শেষেও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিলনা এটা কী হলো। তারপর সন্ধ্যায় যখন মেডেলিয়নের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা সবাই চা খাচ্ছিলাম, তখনও না। রাসেল ভাই একটু পর পরই খুব আফসোস আর হতাশা মেশানো সুরে বারবার মাথা নাড়ছিল। সাথে চায়ের দোকানদারটাও। আর সেই বৃদ্ধ মানুষটাও। যে আমাদের মতই চা খেতে এসেছিল। একটা ছেলে খুব জোরে জোরে চিল্লিয়ে আশরাফুলের আর রুবেল হোসেনের গুষ্ঠি উদ্ধার করতেসিল। কিন্তু আমি পারিনি। রাসেল ভাইও না। ওর ওটা মাত্র সেকেন্ড ম্যাচ ছিল। আর ওর বয়সটা অনেক কম ছিল। ওর কাছ থেকে একবারে এত কিছু আশা করা কি ঠিক? শেষের ভুলটুকু ধরতে ধরতে আমরা ভুলে যাই পনের কোটি মানুষের প্রত্যাশা সাথে নিয়ে দৌড়ানো এত সহজ কিছু নয়। হয়তো আশরাফুলের কিছু ডিসিশন ভুল ছিল। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত কি দুর্দান্ত পারফরমেন্সটাই না করলো ওরা বল হাতে। ওগুলোর কি কোন দামই নেই? আমরা সবাই শুধু জয়ী হতে চাই। আর সেটাই আমাদের কাছে সব কিছু…

রায়হান চলে এসেছিল কিছুক্ষণ পরেই। আর তারও কিছুক্ষণ পরে কাইয়ুম ভাই। এবং তারপর কামরুল ভাই আর কাইউম ভাই মিলে পুরা টাইম জমিয়ে রাখলো। কাইউম ভাইয়ের বলার ঢংটা এত এত ফানি। আমাদের সবার হাসতে হাসতে পেটে ব্যাথা। এবং আমি আজকে বারোটার সময় ঘুম থেকে ওঠার পরও সে ব্যাথা টের পাইসি! কাইউম ভাইয়ের মোজা কাহিনী শুনে অবশ্য হাসতে হাসতে ফিট হয়ে যাইনাই সেটাই আসলে অনেক কিছু। কলেজের কাহিনী শুনতে কখনো বোরিং লাগেনা। না হোক আমার কলেজের কথা। কিন্তু সব ক্যাডেট কলেজের কাহিনীগুলা যেন একই। শুনতে শুনতে মনেই হয়না এগুলা আমার চোখের সামনে ঘটেনাই। আর কামরুল ভাই! মাশাল্লাহ, পুরা মাল একটা! আমি ভেবে পাইনা এই মানুষগুলা এত এত কাহিনী ক্যামনে মাথায় রাখে! আড্ডা চলতে চলতে কখন রাত দশটা বেজে গেছে টেরই পাইনাই। কালই চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু অত রাতে আইউইটি যাওয়া বহুত গ্যাঞ্জাম। বদলে বসলাম মুভি দেখতে। ঋতুপর্ণ ঘোষের দুইটা মুভি দেখলাম। এবং দুইটাই বেশি রকমের ফাটাফাটি। “শুভ মহরত” আর “খেলা”। আমার ধারণাতেই ছিলনা বাংলা ভাষায় সেই ২০০৩ সালে এমন ঝাক্কাস টাইপের একটা থ্রিলার বানানো হইসে। কামরুল ভাই আর শোয়েব ভাই দেখতে দেখতে একসময় ঘুমানোর জন্য চলে গেল। আমি আর মুহাম্মদ তারপরও মুভি দেখতেই থাকলাম। ঘুমাতে ঘুমাতে সাড়ে তিনটার মত বাজলো। আর উঠতে উঠতে বারোটা।

আমার কামরুল ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল মেইনলি শোয়েব ভাইয়ের কাছ থেকে জাভার কিছু জিনিস দেখে নেয়া। শোয়েব ভাইরে সেভাবেই জানিয়ে গেসিলাম আগেই। এবং সারা দিনে সেটা ছাড়া বাকি সময় আর সব কিছুই করলাম ! মাঝখানে ঘুমাতে যাবার আগে শোয়েব ভাই বললো- জিহাদ, তুমি নাকি জাভা শিখতেসো! খেকজ্!

বারোটায় উঠে চলে আসার জন্য রেডি হলাম। কিন্তু নাশতা না করে বাইর হতে পারলাম না। এবং তারমধ্যেই আসলো মাশরুফ ভাই। খাওয়া দাওয়া শেষে শোয়েব ভাইয়ের সাথে বসলাম জাভা নিয়ে। অন্তত যে উদ্দেশ্য এসেছিলাম সেটাকে কিছু হলেও সম্মান জানানো উচিত! তারপর সব শেষ করে মাশরুফ ভাই বললো তার সাথে যেতে। যাবার কারণ অবশ্য মুহাম্মদ। কারণ মাশরুফ ভাই অলরেডী ওর ওপর টোপ ফেলসে তার কাছে বিশাল মুভির কালেকশন আছে বলে। আর তার পিসিতেও নাকি কি সমস্যা হইসে। সেটাও একটু দেখে দিতে বললো। কি আর করা । কামরুল ভাইয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে তিনজন হাটা দিলাম ধানমন্ডি বরাবর। এবং মাশরুফ ভাইয়ের বাসায় পৌঁছে দেখলাম সেটাকে আসলে ছোটখাট রাজপ্রাসাদও বলা যেতে পারে। আমরা সেখানেই লাঞ্চ করলাম। এবং কিছুক্ষণ গুতাগুতি করে বুঝলাম দোষটা আসলে পিসির না। মাশরুফের ভাইয়ের। খেকজ্। এত বিশাল একটা মানুষ। অথচ পিসি ইউজের ব্যাপারে মোটামুটি শিশুই আছে। হে হে হে।

মাশরুফ ভাইয়ের বাসা থেকে বেরোতে বেরোতে সাড়ে চারটা বেজে গেল। আমরা এবার যাবার পথ ধরলাম। দুলদুলের স্টপেজ একটা আশেপাশেই পেয়ে গেলাম ক্যামনে ক্যামনে জানি। এবং সেই বাসটা বিশ্বরোডে আসতেই ইঞ্জিনের মাথা গরম হয়ে গেল। বিকট গন্ধের সাথে কোথ্থেকে জানি ধোয়া উঠতে লাগলো। কাজেই আমাদের সবাইকে বাস থেকে নেমে যেতে হলো। আমরা দাঁড়িয়ে থাকলাম নেক্সট বাসটার জন্য। এবং সেটাও জানি ক্যামন ক্যামন করে অন্য়দিনের চে বেশ তাড়াতাড়িই এসে গেল। আমি উঠে একটা ঘুম দিলাম। এবং আইইউটির কাছাকাছি আসতেই ক্যামন ক্যামন করে জানি সে ঘুমটা ভেংগেও গেল।

আই ইউ টি তে ঢোকার আগেই মামার দোকানে বসে আমি আর মুহাম্মদ বড় এককাপ চা আর এককাপ কফি খেলাম। আর ঠিক সেই সময়ই এলো আম্মার ফোন। তারপর সোজা পাঁচতলা। আর আমার রুমে আসার পর মনে হলো আমি অনেকদিন ধরে কিছু লিখছিনা। আর তাই আসার চার ঘন্টা পরও আমি এখন লিখতে বসেছি। এবং আমি ঢাকা থেকে আসার পর এখনো সেই ড্রেস পড়েই বসে আছি।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s