শূণ্যানুভূতি

খুব আগ্রহ নিয়ে এডিটর টা ওপেন করলাম। এডিটর পেজটা লোড হওয়া শেষ হবার আগেই সব আগ্রহ কোথায় যেন চলে গেল। আর লিখতে ইচ্ছে করছেনা 😦
তবে ইদানিং আমি নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করছি। অবশ্য এবারই প্রথম নয়। আগের সব বারই যে কৃতিত্বের সাথে ফেল করেছি সে আর বলতে। পরীক্ষায় পাস করে কে আবার শখ করে সেটা দ্বিতীয়বার দিতে যায়? যাইহোক, যেটা বলছিলাম। আমার সবসময়ই যেটা হয় আমি হুট করে যা ভাবি তাই করে ফেলি। তবে সেই হুট করে ভাবা ভাবনাগুলোর মধ্যে কখনো এমন কিছু থাকেনা যা অন্যদের ভাষায় পজিটিভ। যেমনঃ খুব দুর্দান্ত কোন মুভি দেখতে দেখতে হুট করে কখনো মনে হয়না কাল কুইজ আছে ,আমার পড়া দরকার। বরং একটা দেখা শেষ করে মনে হয় আরেকটা দেখতে ক্ষতি কি। এই টাইপ আর কি। সবচে বড় যে সমস্যা সেটা হচ্ছে যখন আমার অনেক অনেক পড়া দরকার তখন আমার অনেক অনেক এর চেয়েও অনেক বেশি ঘুম পায়। মনে হয় বইগুলোকে বালিশ বানিয়ে ওগুলোর ঊপরেই ঘুমাই। মনের উপর নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটা এই জন্যেই ভাবছিলাম। কাজেই ইচ্ছে না করলেই হল কি? এটা কি মগের মুল্লুক, লিখতে যখন বসেছি কিছু একটা লিখেই উঠতে হবে।

পরশু রেফার্ড এক্সাম। পড়া শুরু করেছি আজকে। সিলেবাস খুব বেশি খাটাশ টাইপ না। বরং বেশ সোজাই বলা যায়। আমার জন্য যেটা ভয়াবহ বিপদজনক। কারণ দুই ধরণের পরীক্ষার আগে পড়ার টেবিলে (বিছানায় বললেই বোধহয় বেশি সঠিক হয়) থাকতে ইচ্ছে করেনা। সিলেবাস যদি খুব বেশি কঠিন হয় কিংবা একেবারেই তার উল্টোটা হয়। আমার তাই পড়তে ইচ্ছে করছেনা। কিছুক্ষণ আগে ভেবে দেখলাম আমার আসলে কি ইচ্ছে করছে এখন। ব্যাপারটা শেষে এসে দাঁড়ালো যে আমার সেটা নিয়ে ভাবতেও ইছে করছেনা। মেসেঞ্জার খুলে চুপচাপ কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলেম জ্বলজ্বলে নামগুলোর দিকে। কথা বলার মানুষ আছে, কিন্তু কোন কথা হাতড়ে খুঁজে পেলাম না। তাই আর ও পথে পা বাড়ালাম না। সচলে ঢুকে কিছুক্ষণ সেখানে ঘাপটি মেরে থাকলাম। কয়েকটা ব্লগে ঢুঁ মারলাম। তারপর যেমন চুপচাপ ঢুকেছিলাম তেমন করেই বেরিয়ে এলাম। শেষমেষ এসে নিজের ব্লগেই ল্যান্ড করলাম।

তুহিন এর সাথে ঝামেলাটা পরদিনই ঠিক হয়ে গেছে। বলাই বাহুল্য। ও নিজে এসে রুমে এসে স্যরি বলে গেল। আমার তেমন কিছু মনে হলনা। না ভালো , না মন্দ। মনে হচ্ছিল তেমন কিছু তো হয়ইনি যে সেটা নিয়ে আলাদা কোন অনুভূতি তৈরি হবে। আসলে ওদের কয়েকজনকে কখনো আলাদা মনে হয়না। নিজের অনুভূতির এত গভীরে ওরা মিশে আছে যে ওদেরকে আলাদা কেউ বলে মনে হয়না।

দুইটা দিন ক্যামন ফুরুৎ করে উড়ে গেল। সবসময়ই এমন হয়। কাল আবার সাড়ে নয়টা থেকে ক্লাস। আবার পাঁচটা দিনের যান্ত্রিকতায় অভ্যস্ত হবার সময় হয়ে এল। ল্যাব ক্লাসগুলো মাঝে মাঝে খুব পেইন লাগে। যন্ত্রপ্রকৌশল বড় যন্ত্রণা দিতে পারে।

সি সি এন এ পড়া শুরু করলাম কাল থেকে। অনেকটা হুট করে বলা যায়না ঠিক। আর দশটা ডিসিশন মেকিং এর চে এটা একটু সময় নিয়েই ভাবা। আমি নিজেই বুঝতে পারছি আমার ক্যারিয়ার এর বর্তমান পথটায় হেঁটে আমি খুব বেশি স্বস্তি পাবোনা। এবং সেটা ভাবতে গেলেই ইদানিং আমার বেশি অসহায় লাগছে নিজেকে। সেইরকম একটা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কথা চিন্তা করতে গিয়েই এইবারের সিসিএনএ মিশনের শুরু। নেটওয়ার্কিং ব্যাপারটাই আমার কাছে অনেক অনেক এক্সাইটিং। Todd Lammle র বইটা পড়ে মজা পাচ্ছি ব্যাপক। এই ব্যাপারে কিছু একটা বোধহয় করতে পারবো। পারতে হবে।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s