আগডুম বাগডুম

আমার প্রতিদিনই খুব খুব লিখতে ইচ্ছে করে।শেষমেষ দেখা যায় আমার বেশির ভাগ ইচ্ছের মতই নিয়তি মেনে সেই ইচ্ছেটাও মরে যায়।লাস্ট তিনদিনের প্রতিদিনই ওয়ার্ডপ্যাড খুলে কয়েক লাইন লিখে আবার ক্লোজ করে দিয়ে পিসির সামনে ছেড়ে উঠে গিয়েছি।আজকে আগডুম বাগডূম যাই হোক দুই এক লাইন লিখবোই।

প্রথমেই তুহিন এর কথা লিখে শুরু করি।গতকাল ওকে দেখে আমি চিনতে পারছিলাম না।হ্যা,আসলেই চিনতে পারছিলাম না।একমুখ দাড়ি আর লম্বা অর্ধ বাবরি চুল সর্বস্ব তুহিনকে দেখেই আমরা অভ্যস্ত।কাল হঠাৎ দেখি ওর মুখের সব দাঁড়ি উধাও।মাথার চুলও নেই হয়ে গেল।নেই মানে একেবারে নেই তা নয়।তবে পরিপাটি করে চুল কাটা অবস্থায় ওকে কবে লাস্ট দেখেছি মনে পড়েনা।না দেখতে দেখতে সেই চেহারাটাও ভুলে গিয়েছিলাম।কাল তাই অনেক ক্ষণ মুখের দিকে তাকিয়ে চেনা চেনা মনে হল! কিছুক্ষণ পরে ঠাহর হলো।এইডাতো আমাগো তুহিন!ওর হঠাৎ এই ভোল পালটে ফেলায় কিছুটা আশ্চর্য হই।অন্তত ডিনার এ যাবার আগ পর্যন্ত আশ্চর্য হয়ে ছিলাম।খেতে খেতে শামীম এর মুখে আরো কিছু শুনে কাহিনী ক্লিয়ার হলো।সারক্ষণ মেয়েদের কথা শুনে নাক শিটকানো তুহিন নাকি ডেটিং এ গিয়েছে।শামিম যখন এই গরম গরম খবর টা ততোধিক গরম আবহাওয়ার মধ্যে পরিবেশন করলো আমি খাওয়া বাদ দিয়ে কিছুক্ষণ হা করে বসেছিলাম।ঠিক এই মুহূর্তে তুহিন নাকি ঐ মেয়েটার হাত ধরে বসে আছে- মুহাম্মদ সাথে যোগ করলো।তুহিন হাত ধরে না পা ধরে বসে আছে সেটা মুহাম্মদের জানার কথা নয়।কিন্তু কথাটা কেন যেন বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করলো!আমি খাওয়া বাদ দিয়ে চোখ বন্ধ করে দৃশ্যটা চিন্তা করার চেষ্টা করলাম।তুহিন মেয়েটার হাতে নিজের হাতে নিয়ে গদগদ ভংগীতে বাংলা সিনেমা থেকে ধার করা ডায়লগ আওরাচ্ছে।আর মেয়েটা আধাআধি লজ্জা আর হাসির একটা মিক্সচার যত্ন করে মুখে সাইনবোর্ডের মত ঝুলিয়ে রেখেছে।ভাবতেই তো কেমন লাগে।তুহিনকে আসলেই এভাবে মানায় না।তবু ভাবতে ভালই তো লাগছে।আমাদের ধারণার বাইরের জিনিসগুলো ভাবতেই বোধহয় আমরা বেশি মজা পাই।

আজকে নাসিমের মামার বিয়ে।সব গেল দল বেঁধে।অলমোস্ট আমাদের ব্লকের সবাই।আমার মত আরো তিন কি চার জন বাদে।যাবার ইচ্ছে আমারো ছিল।শুধু গরমের ভয়ে পিছিয়ে গেলাম।খালি গায়ে থাকাই কষ্টকর লাগে এই গরমে।সেখানে বিয়ের জন্য সাজুগুজু করে ফিটবাবু সেজে দুলদুলে করে দুই ঘন্টা জার্নি করা।এর চে জাহান্নামের পুকুরে দুই বার ডুব দিয়ে আসাও বেশ আরামদায়ক হবে বোধহয়।তবে আসল কাহিনীটা হল ওরা চলে যাবার পর।চুপচাপ ব্রাউজ করছি চেয়ারে বসে ।হঠাৎ কেমন চিল্লাপাল্লার আওয়াজ শুনলাম।ফার্স্ট ইয়ারের বিটলামি ভেবে তেমন কিছু ভাবিনি আলাদা করে।ওরা তো হরলিক্স খাওয়ার মত টুকটাক চিল্লাপাল্লা এমনি এমনি করে।আমাদের সময় আমরাও করতাম।কাজেই এই সবে কান দেবার কোন মানে হয়না।আবার ব্রাউজিং এ মনোযোগ দেই।হঠাৎ কেউ একজন করিডোর ধরে দৌড়ে গেল একেবারে শেষ মাথার দিকে যেখান থেকে পাশের মেইনরোডটা চোখে পড়ে পুরোটুকু।এত রাতে হঠাৎ মেইন রোড দেখার শখ জাগলো কেন বোঝার জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠলাম।এবং সব দেখে শুনে আমিও মেইন রোড দেখতে রাখলাম মনোযোগ দিয়ে!
ব্যাপারটা বুঝতে প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলো।কারণ প্রতিদিনই তো আর চোখের সামনে গাড়ি ভাংচুরের দৃশ্য দেখতে হয়না।পুরো রাস্তা জুড়েই জ্যাম বেধে গেছে।একটার পর একটা গাড়ি চুপচাপ সারি বেধে দাঁড়িয়ে আছে।আর লাঠিসোটা নিয়ে কিছু মানুষ নিয়ম করে একটার পর একটা গ্লাস ভাঙ্গছে।কি অদ্ভূত দৃশ্য।মানুষ এভাবে কোন কারণ ছাড়া কারো ক্ষতি করতে পারে এই সব ঘটনা চোখের সামনে না দেখলে আমার মত বোকার ঠিক বিশ্বাস হতে চায়না।কয়েকজনকে ধরে পেটালোও দেখলাম।কিন্তু কি দোষে মারা হচ্ছে সেটা আর জানতে পারলাম না।জানতে পারার কথাও না।এই গল্পটার এই দৃশ্যে আমরা ভূমিকা হচ্ছে শুধু দেখে যাওয়া।আমি চোখে বিস্ময় নিয়ে তাই করতে লাগলাম।আর দেখতে লাগলাম মানুষ কিভাবে কারো প্রতি কোন প্রতিহিংসা ছাড়াও ক্ষতি করতে পারে।গাড়ির কাঁচ ভাঙার শব্দ কানে এসে বিঁধতে লাগলো।সাথে ছুটন্ত সাধারণ মানুষের পায়ের আওয়াজ মিশে একাকার হলো।আমি কপালে ভাঁজ ফেলে ছুটোছুটি করা মানুষগুলোর জন্য শংকা নিয়ে তাকিয়ে রইলাম।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s