রাতে ভাল ঘুম না হওয়া এক বালকের অসংলগ্ন প্রলাপ

((প্রথমেই বলে নেই।পরে প্যাদানি খেতে রাজি নই।আমার এই পোস্ট এর সাহিত্যগুনতো দূরে থাক,এটি যে কোন ধরণের গুণাগুণ বর্জিত একটি আজাইরা পোস্ট।কাজেই সময়ের মূল্য রচনাটা যাদের এতদিন পরেও ভালভাবে মুখস্ত আছে তারা চাইলে এখান থেকেই ফিরে যেতে পারেন।অবশ্য যদি কারো কাছে মনে হয় সময় এবং নদীর স্রোত- দুটোই তাদের জন্য পথ চেয়ে অপেক্ষা করে তাহলে সামনে আগায়া যান।আমিও আপনার মত পাঠকের জন্যই অপেক্ষা করছি।))

আজকের দিনের শুরুটা কেমন ছিল সেটা আগে বলি।এই মডার্ণ যুগেতো রাত বারোটা থেকেই দিনের শুরু।আমারটা আজাইরা প্যাচাল এর শুরুও সেখান থেকেই।কোন এক কারণে আমাদের একটা গ্রুপ ব্লগের একজনের সাথে হেভী ঝগড়া দিয়ে দিনের শুভ সূচনা।গড়াতে গড়াতে রাত সাড়ে তিনটা বাজলো।সূচনা আর শেষ হয়না।কমেন্ট এর পর কমেন্ট দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টায় সকাল আটটার ক্লাসটেস্টের চিন্তা বিসর্জন দিলাম।অপমানের চেয়ে মৃত্যু ভাল।ক্লাসটেস্টের মত ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ভাবার সময় কই।একটা সময় ঝড় থামিলো।অনেক বাকবিতন্ডার পর প্রতিপক্ষ লেজ গুটিয়ে রণে ভংগ দিল।আমিও বিজয়ের হাসি হেসে কাল্পনিক গোঁফে তা’ দেই।ঝড় থামলেই আসে পূনর্বাসনের চিন্তা।ক্লাসটেস্টটা এইভাবে ছেড়ে দেবার চিন্তা মাথায় আসলেই কোথায় জানি খঁচখঁচ করতে লাগলো।কাম অন জিহাদ… তোমার মত যুদ্ধজয়ী বীর ক্লাসটেস্ট এর মত মামুলি ব্যাপার এর কাছে হেরে গেলে হয় নাকি… মনের মদ্ধে কে জানি কথা কয়।খানিকটা অপমানের আভাসও পাই যেন।মৃত্যু আর অপমান এর ইকুয়েশনটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।সহ্য করতে না পেরে পড়ার টেবিলে বসে গেলাম।রাত বাজে সাড়ে চারটা।সামির টা আজকেও ঘড় ঘড় করে নাক ডাকছে।পাশের বেডের দিকে চেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস কোথা থেকে তৈরী হয়ে কোথা দিয়ে যেন বের হয়ে গেল।আমি পড়ায় মন দিলাম।
………

হঠাৎ মনে হল আশে পাশেই কোথাও প্রচন্ড তীক্ষ্ণ শব্দে সাইরেন বাজছে।আমার বুকটা কোন কারণ ছাড়াই ধড়ফড় করা শুরু করলো।সামির দেখি বুকে ফুঁ দিয়ে লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা পড়ছে।সামিরকে জিগাই
-দোস্ত,কি হইসে??
-কেয়ামত!!! বলেই আবার দরুদ পড়ায় মন দেয় ও।
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বুক ধড়ফড়ানির কথাও ভুলে যাই।সাইরেনটা তখনো বাজছে।কোন দিকে দৌড়ামু বুঝতেসিনা।হাশরের ময়দানে আগে তো কখনো যাইনাই।ক্যামনে কি??
হঠাৎ কথা নাই বার্তা নাই সামির সামনে এসে দুই হাত দিয়ে আমাকে ঝাকাতে শুরু করলো।আমিও ওষুধের শিশির মত ব্যবহারের পূর্বের নিয়ম অনুসরণ করে ঝাঁকতে লাগলাম।
…… অনেক কষ্টে চোখ খুলে দেখি সামির দুই হাত দিয়ে ঝাঁকাচ্ছে।
-দোস্ত,ক্লাস টাইম হয়া গ্যাসে।ওঠ।…চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
টেবিলের উপর পিচ্চি ঘড়িটা তখনো গলা ফাটিয়ে ষাঁড়ের মত চেচাচ্ছে।থাবড়া মেরে ওঠাকে ঘুম পাড়িয়ে নিজে জেগে উঠলাম।ক্লাসটেস্ট শুরু হবার বেশি দেরি নেই… দে দৌড়…

……

স্কুলে থাকতে বাংলা সাবজেক্টটারে অনেক গাল দিতাম।বাংলা পরীক্ষা মানেই অলিম্পিকে ম্যারাথন দৌড়ের জন্য নাম লেখানো।মাইলের পর মাইল লিখেও উত্তর শেষ হতে চায়না।আজকে অটোমেশন পরীক্ষা দিতে গিয়া প্রথমবারের মত বাংলা পরীক্ষা দেওয়ার কথা মিস করলাম।”একটি শীতের সকাল” রচনা পরীক্ষায় লিখতে আসলে পরীক্ষার খাতায় নির্দ্বিধায় “ব্ল্যাক” এর গানের লিরিকস- “বাতাসে ফুলের সৌরভ,পাতা ঝরেছে… শীত আসবে বলে…পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়েছে…” এইসব হাবিজাবি লিখে জনৈক কবির ঘাড়ে চাপিয়ে দিতাম।”অটোমেশন এন্ড সিস্টেম কন্ট্রোল” এর উপর কোনকালেই কোন জনৈক কবি কিছু লিখে যায়নাই।এই জন্য পুরো পরীক্ষার টাইমে কবি গোষ্ঠীর নামে অমৃতবাক্য বর্ষন করলাম আর অটোমেশন এর উপর কবি কেন কিছু বলে নাই এহেন অবিচার এর প্রতিবাদস্বরুপ পরীক্ষা শেষে প্রায় সাদা খাতা জমা দিলাম…

……

ক্লাসটেস্ট এর পরের ক্লাসটা যার নেয়ার কথা তিনি আই ইউ টি তে “ক্রেজি গাই”(গাই রে গাভী ভাইবেন না আবার)হিসেবে সুপরিচিত।এমনিতেই রাতে ভাল ঘুম হয়নাই।তারমধ্যে এরকম ব্যাপক একটা পরীক্ষা দেবার পর পরই পাগলের খপ্পরে পড়ার কথা ভাবতেই খালি মনে হচ্ছিল পেছনের দরজাটার সদ্ব্যবহার করি।কিন্তু কেন জানি শেষ মেষ থেকে গেলাম ক্লাসে।স্যারকে অতি মনোযোগের সাথে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলাম।স্যার লিখে ব্ল্যাকবোর্ডে।আর আমি লিখি খাতায়।কি লিখলাম সেটাই বলি এখন-

গোঁফঅলা মাস্টার
হাতে নিয়ে ডাস্টার
ঘষে চক কালো কালো বোর্ডে
পেছনেতে ছাত্র
জপে দিবারাত্র
আজকের মত বাপু ছোড়দে।

চশমাটা ঝুলিয়ে
ভুঁড়িখানা দুলিয়ে
করে যায় বকবক তবুও
ঘ্যানঘ্যানে বয়ানে
ঢুলুঢুলু নয়নে
ঘুমুবে যে জাগরণ প্রভূও।

ক্লাস প্রায় শেষের দিকে।স্যার হঠাৎ যাবার আগে সেকেন্ড টাইম এটেন্ডেন্স নেয়া শুরু করলেন।এমন কখনো হয়না।উড়োফোনে খবর পেয়ে ক্লাসপলাতক বালকদের কয়েকজন পিছনের দরজা দিয়ে গেরিলা স্টাইলে প্রবেশ করতে লাগলো।সবাই চিতার ক্ষিপ্রতায় ক্লাসের একেক কোনায় টুপ করে বসে গেল।ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার উদাহরণ হলো সিয়াম।স্যার ওকে দেখে ফেললেন।
-এই ছেলে,কোথায় গিয়েছিলে?
-স্যার,টয়লেটে। এইটুকু বলে সিয়াম মাথা চুলকায়।
-আমারে দেখলেই কি খালি হাগা মুতা আসে নাকি ?
শুনে পেছনে হাসির রোল উঠলো।সিয়াম কি উত্তর দিবে বুঝতে না পেরে তখনো মাথা চুলকাচ্ছে।
আর আমি মনে মনে ভাবি… স্যার এরও নিশ্চয়ই রাতে ঘুম হয়নাই…

……

এরপর জাপান ফেরত সেমি টেকো এক ইয়াং প্রফেসর এর ক্লাস।আই ইউ টি তে এসে দুইজন জাপান ফেরত টীচার এর ছায়াতলে আসার ভাগ্য(সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য সেটা আর বললাম না) হয়েছে।এই দুইজনের ছাত্রত্ব গ্রহণের অভিজ্ঞতা থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ অনুসিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তা’ হলো- এরা নিজে ভাল বুঝে কিন্তু অন্যকে বুঝাইতে পারেনা (কথাটা সবাইকে ঠিক মত বুঝাইতে পারলাম কীনা বুঝতেসিনা)।কোন একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে কিছুক্ষন উইন্ডোজ ৯৮ এর মত হ্যাং হয়ে থাকে।তারপর প্রসেসিং শুরু হয়।আমার এক বিজ্ঞ ক্লাসমেট এর ধারনা সেখানে জাপানি ল্যাংগুয়েজে পড়াশোনা করার দরুণ কোন কিছু ইংরেজীতে প্রশ্ন করলে তারা মনে মনে সেটাকে প্রথমে জাপানী ভাষায় কনভার্ট করে।তারপর আগডুম বাগডুম একটা উত্তর দাঁড় করানোর পর সেটা জাপানী থেকে ইংরেজীতে কনভার্ট হয়ে তারপর আমাদের কানের পর্দায় অনুরণন তোলে।ম্যানুফ্যাকচারিং লীড টাইম এই জন্যে একটু বেশি হয় এইসব জাপান ফেরত পন্ডিত মশায়দের।(আমার ক্লাসমেট এর এই থিওরী শোনার পর সবাই ভেবেছিলাম এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্য ওর জন্যে জাপানে একটা স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা করা যায় কীনা।)

যাই হোক স্যারকে দেখে আমার আবার ছড়া লেখার ভাব জাগ্রত হল।রাতে ঠিক মত ঘুম না হলে নানা সিম্পটম এর কথা শুনে এসেছি এতদিন।কিন্তু কারো ছড়া লেখার ঝোঁক উঠে এটা কখনো শুনিনাই।তবে আজকে নিজের চোখেই দেখতে লাগলাম।ক্লাস লেকচারের খাতায় আরেকটা না ঘুমানো শিল্প সৃষ্টি হল।

নতুন এবং ওল্ড fellas,
জাপান থাইক্কা ফার্স্ট কেলাস
আইসে নিয়া একজনা
ঢুকিয়ে নিজের বগলে;
তালিয়া দেন হগলে।

বিদ্যাসাগর এই মশায়
সব ঢেলে দেন এক বসায়
বলবিদ্যার যন্ত্রণা
চুবানি খেয়ে কই allas!!
মিস গেল যে A পেলাস (+)

……

এই লেখা পড়তে শুরু করার একেবারে প্রথমে কারো মনে যাও একটু সন্দেহ ছিল উদ্ভট ছড়ার এহেন ভয়ংকর মহড়া দেখে সেই সন্দেহও উর্দ্ধপাতন প্রক্রিয়ায় নিশ্চিতভাবেই পুরোপুরি উবে গেছে।কারো মনে আর এতটুকু সন্দেহ থাকার কথা না যে এইটা আসলেই একটা আজাইরা পোস্ট।অবশ্য জানি কেউ গালাগালি করবেন না।কারণ আপনি নিশ্চিত ভাবেই আমার গোত্রীয়।আজাইরা সময় কারো না থাকলে এতক্ষন ধৈর্য ধরে কেউ এই লেখা পড়েনা।

Advertisements
This entry was posted in দিন লিপি and tagged . Bookmark the permalink.

2 Responses to রাতে ভাল ঘুম না হওয়া এক বালকের অসংলগ্ন প্রলাপ

  1. জিহাদ,
    তোমার ব্লগটা ফায়ারফক্সে পড়া যাচ্ছে না, এক্সপ্লোরারে অবশ্য ঠিক আছে দেখলাম। কিন্তু আমার মনে হয় এটা ঠিক করে ফেলো বরং কারন অনেকেই কিন্তু ফায়ারফক্স ব্যবহার করে। http://www.omicronlab.com/go.php?id=38 এই লিংক থেকে icomplex ডাউনলোড কর, তাহলে ঠিক হয়ে যাবে আশা করি। ফাইলটা একটু বড়, বাংলাদেশের স্পীডে বিরক্ত লাগবে সন্দেহ নেই, তবু করে ফেলো। আমি কিন্তু দেশে থাকতে এই ফাইলটা আমার কম্পুতে ইনস্টল করেছিলাম। গুড লাক 🙂

  2. loNely cLoud বলেছেন:

    আপু আপনার কথাটা মাথায় রাখলাম। এই খানে একটা কারণেই ব্লগ শুরু করেছিলাম কারণ থিম গুলা জোস।কিন্তু দেখতেসি এখন অনেক প্রব্লেম আছে। ওয়ার্ডপ্রেসে শিফট করার চিন্তা ভাবনা করছি।

    আর কমপ্লেক্স স্ক্রিপ্ট আমারটাতে ইন্সটল আছে।প্রথলেমটা খুব সম্ভবত সাইটটার।আমার এখানেও মজিলাতে দেখতে পারছিনা।যদিও অপেরা আর এক্সপ্লোরার এ ঠিক ঠাক আসছে 😦

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s